শাশুড়ি হত্যার দায়ে জামাতাসহ চারজনের যাবজ্জীবন

গাজীপুরে শাশুড়ি হত্যার দায়ে জামাতাসহ চার জনের যাবজ্জীবন কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এই রায় দেন। এ সময় প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, নিহতের জামাতা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দপাড়া এলাকার আনুর উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), একই এলাকার মালেক সরকারের ছেলে দোলোয়ার হোসেন (৩৯), জয়নাল আবেদীনের ছেলে খলিল (৩৬) ও সিটি করপোরেশনের কড্ডানান্দুন এলাকার আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মাসুদ (৪২)। 

গাজীপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. রবিউল ইসলাম ও আইনজীবী শরীফ ফজলে রাব্বী জানান, জামাতা সাইফুলের চান্দপাড়া এলাকার বাড়িতে শাশুড়ি আলেয়া বেগম বসবাস করতেন। পারিবারিক কলহের জেরে ১৯৯৪ সালের ৩০ অক্টোবর জামাতাসহ ওই চারজন আলেয়া বেগমক শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরদিন এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ জামাতা সাইফুলকে গ্রেফতার করে। আদালতে তার সহযোগীদের নিয়ে শাশুড়িকে হত্যা করার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সাইফুল। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার (তৎকালীন) এসআই মামুনুর রশীদ অভিযুক্ত চার জনের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, শাশুড়ির অন্যায় কাজে বাধা দিলে জামাতা সাইফুলকে লোক দিয়ে মারার হুমকি দেন শাশুড়ি  আলেয়া বেগম। ঘটনাটি সাইফুল জেনে ফেললে ক্ষুব্ধ হয়ে এক হাজার টাকায় খুন করা জন্য চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক তারা আলেয়ার হাত-পা বেঁধে চার জনে মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

মামলায় ৯ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ শুনানী শেষে বুধবার দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শাশুড়ি হত্যার দায়ে আসামিদের উপস্থিতিতে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শরীফ ফজলে রাব্বী ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর, এম এ আউয়াল প্রমুখ।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment