বার অনশনে রমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ


রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের কর্মবিরতি চলার পাশাপাশি প্রতীকী অনশন শুরু হয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার, ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ ৫ দফা দাবিতে শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলার পাশাপাশি রোববার সকাল ১০টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে, টানা তিনদিন ধরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে থাকায় রোগীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। 

অনশন কর্মসূচি চলাকালে সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডিউটি শেষে হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পাসের হোস্টেলে ফেরার পথে ইন্টার্ন চিকিৎসক সুমনের উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা এ সময় সুমনকে বেদম মারপিট করে নগদ অর্থ ও একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। আহত অবস্থায় ডা. সুমনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত এক সপ্তাহে হাসপাতালের ক্যাম্পাসে আরও ৩টি সন্ত্রাসী হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনকে বার বার বলা সত্ত্বেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শুরু করেছে। দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মাহমুদুর রহমান রিফাতের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. নাজমুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক ডা. বিজন সরকার, ডা. নাজমুল হুদা, ডা. তমা, ডা. রওজাতুল রোম্মান প্রমুখ। 

এদিকে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অব্যাহত কর্মবিরতির ফলে রোগীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের এক রোগীর আত্মীয় শফিকুল ইসলাম জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে থাকায় আমরা রোগী নিয়ে ভীষণ সমস্যায় পড়েছি। কারণ বড় ডাক্তাররা দিনে একবার বা দু`বারের বেশি আসেন না রোগীর কাছে। ইন্টার্ন ডাক্তাররাই রোগীদের দেখভাল করেন। 

মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগী মর্জিনা বেগমের স্বামী আকতারুজ্জামান জানান, এভাবে কর্মবিরতি চললে রোগীকে হাসপাতাল থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হবে। 

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আ.স.ম. বরকতুল্লাহ জানান, বিষয়টি নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্বাচিপনেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি শিগগির এ বিষয়ে সমাধান হবে।  

মেডিকেল ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া জানান, ইন্টার্ন ডাক্তারের উপর হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment