এ মাসেই খালি হচ্ছে ২২৮ বছরের পুরাতন কারাগার


আজই উদ্বোধন হয়ে গেলো রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জে নির্মিত নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারাগার কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন। আর এ কারাগারটি চালু হওয়ার পর ঢাকার পুরনো অংশের বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারটি বাতিল করা হবে। 

ঢাকা থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-মাওয়া সড়কের দক্ষিণে কেরানীগঞ্জে ৪ হাজার ৫৯০ বন্দি ধারণক্ষমতার নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৪ দশমিক ৪১ একর জমির উপর। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪০৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। নতুন এ কারাগারের নির্মাণ শুরু হয় ২০০৭ সালে।

আর ২ হাজার ৮২৬ বন্দি ধারণক্ষমতার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মিত হয়েছিল ১৭৮৮ সালে। সোয়া ২শ বছর আগে স্থাপিত পুরান ঢাকার এ কারাগারে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা অনুমোদিত সীমার প্রায় তিনগুণ। আর সেকারণেই নির্মাণ করা হয়েছে নতুন কারাগার। 

পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নতুন কারাগারের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। বর্তমান কারাগারে থাকা প্রায় আট হাজার বন্দিকে সড়কপথেই নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। উদ্বোধনের পরপরই পুরনো কারাগার থেকে অতিরিক্ত বন্দিদের সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন কারাগারের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘একদিনেই সব কারাবন্দিদের স্থানান্তরের চিন্তা থাকলেও তা সম্ভব নয়। কারণ এক ভ্যানে ৫০ করে স্থানান্তর করা হলে ৮ হাজার কারাবন্দির জন্য ১৬০টি ভ্যান প্রয়োজন। কিন্তু এতো সংখ্যক ভ্যান আমাদের নেই। তাছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে কারাবন্দিদের স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’

কারা মহাপরিদর্শক আরো বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ এবং বিজিবি, আনসার সবার সহযোগিতা নিয়ে রাস্তাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করে এবং প্রিজন ভ্যানে করে তাদের এসকর্ট করে নিয়ে আসা হবে।’ 

এদিকে নতুন কারাগারটিতে ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হলেও তাতে পুরনো কারাগারের সব বন্দিদের স্থান সঙ্কুলান হবে না। পুরাতন কারাগারে আড়াই হাজারের মতো ধারণক্ষমতার বিপরীতে আট হাজারের মতো বন্দিকে ঠাসাঠাসি করে রাখা হচ্ছিল। আর নতুন কারাগারে ধারণক্ষমতা সাড়ে চার হাজারের মতো। ফলে স্থান কিছুটা বাড়লেও বন্দিদের দুর্দশা দূর হওয়ার মতো যথেষ্ট নয়। এখানেও সেই আট হাজার কয়েদিকে ঢোকানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে মহাপরিদর্শক বলেন, ‘আমাদের দেশের মতো পরিস্থিতিতে একসাথে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রতিটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে। আমরা আগের অবস্থা থেকে একটু উন্নত পর্যায়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘নতুন এ কারাগারে ২৭০ বন্দি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন নারী কেন্দ্রীয় কারাগারের কাজও চলছে। পুরুষ কারাগার-১ এর সমপরিমাণ ধারণক্ষমতা সস্পন্ন পুরুষ কারাগার-২ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।’ এতে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান আইজি প্রিজন।
সূত্র :বাংলাম্ইল২৪

Post a Comment