‘জানডা আর চলে না’

দরিদ্র ভ্যানচালক মিন্টু। সোমবার দুপুর দেড়টায় বাংলামোটর থেকে ভ্যানগাড়িতে অ্যালোমোনিয়ামের রডের মালামাল তুলে পূর্ব বাড্ডার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেল সাড়ে ৪টায় রামপুরা ব্রিজের সামনে পৌঁছেন। অন্যান্য সময়ে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে মধ্যবাড্ডায় মালামাল পৌঁছে দিতে পারলেও গত কয়েকদিন তিন ঘণ্টায়ও পৌঁছাতে পারেননি।

এ প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে মিন্টু রাস্তার পাশে ভ্যানগাড়িটি রেখে নিচু হয়ে দুহাত হাঁটুর ওপর চেপে ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে থাকেন, কোমড় থেকে গামছার বাঁধন খুলে তা দিয়ে হাতমুখ মুছতে থাকেন। একটু বিশ্রাম নিয়ে অদূরে তরমুজ বিক্রেতার উদ্দেশ্যে হাঁক ছেড়ে দ্রুত এক ফালি তরমুজ কেটে দেয়ার অনুরোধ জানান। মিন্টুর সারা শরীর ঘামে ভিজে একাকার। 

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মিন্টু জানান, ‘গরমে জানডা যেন শ্যাষ অইয়া যায়। জানডা আর চলে না।’ 

তিনি বলেন, ‘একলা শইল্লে (শরীরে) ভ্যানে ভারি মাল টানি। এই গরমের মইধ্যে কিছুক্ষণ ভ্যানগাড়ি টানলে পা আর সামনে চলে না। দশ পনের মিনিট বিশ্রাম নিয়া আবার চালাইতে হয়।’

কেবল ভ্যানচালক মিন্টু নন, চৈত্রের ক্রান্তি লগ্নে রাজধানীরসহ সারাদেশের মানুষ গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা এখন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোটা স্পর্শ না করলেও তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। স্কুলে ছেলেমেয়েকে পাঠিয়ে ছুটি শেষে ঘরে ফেরা না পর্যন্ত চিন্তাগ্রস্ত থাকছেন অভিভাবকরা। রাস্তাঘাটে বের হলেই গায়ে ফোসকা পড়ার মতো অনুভূতি হচ্ছে।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পেশাজীবী; রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর ও শ্রমিকদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। 

রাজধানীর লালবাগ, আজিমপুর, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, কলাবাগান, শাহবাগ, হাতিরপুল ও রমনা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে গরমে তৃষ্ণা দূর করতে মানুষ ফুটপাতের ডাব, কাঁচা আমের ভর্তা, লেবুর রস, আখের শরবত ও তরমুজ, বাঙ্গির দোকানে যেন হামলে পড়ছে মানুষ। বরফ মেশানো সরবত খেয়ে ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করছেন তারা।  

হাতিরঝিল-রামপুরা এলাকায় ডিউটি করছিলেন আনসার সদস্য রবিউল। প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে ডিউটি করছিলেন। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে যানবাহন চলাচল করায় যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছিলেন। 

এ প্র্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রবিউল বলেন, দুপুর ২টায় ডিউটি শুরু করছি। এক সহকর্মীর সাথে এক ঘণ্টা পর পর পালাবদল করে ডিউটি করছেন। তিনি জানান, কখন বিকেল হবে সেই অপেক্ষা করছেন।  

একই এলাকায় রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন বোরকা পরিহিত দু’জন ভদ্রমহিলা। হঠাৎ করে রিকশাচালককে থামিয়ে দুই গ্লাস ঠাণ্ডা বরফ মেশানো আখের রস কিনে খান। গরম কেমন পড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, গরমে ঘেমে অস্থির হয়ে উঠেছি। গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল বলে পথিমধ্যে রিকশা থামিয়ে আখের রস কিনে খাচ্ছি। 

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুসারে রোববার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। 
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment