**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

প্রধানমন্ত্রী জানলে ঠিকই আমাকে সাহায্য করতেন : শুভ্রা


আশির দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শুভ্রা। স্বাধীনতার পর শুভ্রার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’ দিয়ে। তার সর্বশেষ মুক্তি প্রাপ্ত ছবি ‘ভালোবাসা দিবি কিনা বল’। 

গ্ল্যামারে সজীব নায়িকা না হলেও চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন বহু ছবিতে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অভিনয় করছেন না শারীরিক অসুস্থতার কারণে। শুভ্রা  ডায়াবেটিস, হৃদরোগ নানা রকম সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছ। বর্তমানে বাসার বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিন গুনছেন চিরতরে মুক্তি লাভের। 

তার পরিবার সূত্রে জানা গেল, শুভ্রার অবস্থা তেমন একটা সন্তোষজনক নয়। তার পরিবার চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না বলেই চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বিবিএ পড়ছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর স্বামী বেকার। শুভ্রার অভিনয়েই সংসার চলতো। কিন্তু তিনি বিছানায় পড়ে থাকায় বর্তমানে টানাপোড়েনে চলছে এই সংসার।

শুভ্রা মুঠোফোনে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বড় মনের অনেক গল্প শুনি। বিশেষ করে তিনি শিল্পীদের জন্য নাকি স্নেহপ্রবণ। সেই ভরসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরেও সাহায্যের আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মিলেনি। আমার বিশ্বাস, আবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়নি। নইলে তিনি অবশ্যই আমার জন্য একটা ব্যবস্থা করতেন।’

শুভ্রা আরো বলেন, ‘আমার জীবন নিয়ে লোভ নেই। আমার কষ্ট হয় ছেলেটির জন্য। আমি চলে গেলে ও বড় একা হয়ে যাবে। ওর পড়াশোনার কী হবে। কীইবা গতি হবে ওর ভবিষ্যতের। আগে তো অভিনয় করে সংসার চালাতাম। এখন আর তাও পারি না।’

চলচ্চিত্রের মানুষদের প্রতি আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনের অনেক সময় কাটিয়েছি চলচ্চিত্র আর অভিনয়ে। এই যে আমি এতদিন পড়ে আছি হাতে গোনা দুই একজন ছাড়া আর কেউ আমার খোঁজ নিতে আসেনি। চাঁদা দিতে পারি না বলে শিল্পী সমিতির সদস্য পদ ছাড়তে হয়েছে। তাই সেখান থেকেও কোনো আশ্বাস বা সাহায্য পাইনি। সবসময় শিল্পী সমিতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও হঠাৎ করেই আমি সেখান থেকে সরে এসেছি। কেন যে সরে এলাম সেটা কেউ জানতে চাইল না। আরে বাবা, বাড়ির পাশের যে পড়শির সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হয় হঠাৎ একদিন তাকে না দেখলেও তো মানুষ একে ওকে জিজ্ঞেস করে যে মানুষটা কোথায় হারিয়ে গেল? কেন গেল? কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্রের সম্প্রীতির এমন নাজুক অবস্থা যে, একজন জনপ্রিয় তারকাও যদি কিছুদিন কাজ না করেন তাকে ভুলে যেতে সময় লাগে না। মাঝে মাঝে আক্ষেপ হয় খুব!’

শুভ্রার পরিবারের দাবি, অসুস্থ শুভ্রার পাশে দাঁড়াবে তার ভালোবাসার চলচ্চিত্রের মানুষেরা। তার সাহায্যে এগিয়ে আসবেন সরকার ও দেশের মানুষ। আবারো সুস্থ-সুন্দর জীবনে ফিরে যাবেন শুভ্রা তার ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে।

এদিকে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান বলেন, ‘শুভ্রা এক সময় আমাদের সদস্য ছিলেন। এখন নেই। তার ব্যাপারটা দেখার জন্য শিল্পী সমিতিকে অনুরোধ করেছেন প্রবীন অভিনেতা বাবর। বৈশাখের নানা ঝামেলায় আমরা এর মধ্যে তার কোনো খবর রাখতে পারিনি। তিনি আমাদের সদস্য না হলেও একজন প্রবীণ শিল্পী হিসেবে আমরা তার বিষয়টি অবশ্যই দেখার চেষ্টা করব।’ 

আপাতত এই আশ্বাসই মিলেছে শুভ্রার জন্য। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শুভ্রা অভিনয় করেছেন ‘এক মুঠো ভাত’, ‘বাজিমাত’, ‘আপনজন’, ‘আদরের সন্তান’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় আর ব্যবসা সফল ছবিতে। 
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment