প্রাণ’র ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠিত


রাত ১০টা। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেশন সিটি তখনও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মুখোরিত। কেউ আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ আবার নৈশভোজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রঙিন মঞ্চ থেকে ভেসে আসা তারকা শিল্পীদের মনকাড়া সুর তাতে সঙ্গ দিচ্ছে। এমন জমকালো আনন্দ মূহুর্ত রেখে কেউ যেন ঘরে ফিরতে চাইছিলেন না।

আনন্দময় মূহুর্তে সঙ্গ দিয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আহসান খান চৌধুরী বললেন, ‘আসলে নিজ পরিবারের সদস্যদের বেশি বেশি সময় দেয়ার জন্য এমন আয়োজন করা উচিত।’

শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেশন সিটিতে প্রাণ কোম্পানির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ফ্যামিলি ডে। এতে প্রাণ কোম্পানির সদস্যরা অংশ নেন।

এদিন বিকাল ৪টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হলেও প্রাণ পরিবারের সদস্যরা মিলতে থাকেন দুপুরের পর থেকেই। সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যেতে থাকে বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির নবরাত্রী হল প্রাঙ্গণ। হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় নবরাত্রী হল।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আহসান খান চৌধুরী, বিপণন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী কামরুজ্জামান কামাল এবং প্রাণের পরিচালক ইলিয়াস মৃধা।

প্রাণের বন্ধনে সবাই যেন সবার অতি আপনজন হতে থাকেন। কুশল বিনিময় করেন একে অপরের সঙ্গে। চা, কফিসহ প্রাণের নানা স্ন্যাকস ভাগাভাগি করতেও দেখা যায় কাউকে কাউকে। আবার কেউ কেউ স্বজনদেরও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন ফ্যামিলি ডে’তে।

আয়োজনের বিশেষ অাকর্ষণ ছিল শিশুদের জন্য নানা পরিবেশনা। নবরাত্রী হল প্রাঙ্গণের গোটা চত্বরই ছিল শিশুদের খেলনায় ভরপুর। এসব খেলনা পেয়ে শিশুদের আনন্দ যেন ধরে না। বানর খেলা, সার্কাসসহ ছিল গ্রাম বাংলার নানা পরিবেশনা।

এদিকে অনুষ্ঠানের পুরো সময়ই হলের অভ্যন্তরে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দর্শক অাকৃষ্ট করা হয়। গান পরিবেশন করেন দেশের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হাবিব এবং ন্যান্সি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রাণ পরিবারের সদস্যরাও গান, নৃত্য, কবিতা, কৌতুক পরিবেশন করেন। থাকে শিশুদেরও নানা পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রাণ-আরএফএল-এর তৈরি নানা পণ্যও প্রদর্শন করা হয়।

ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে ছিল র‌্যাফেল ড্র-এর অায়োজন করা হয়। ড্রতে একশ’ জনকে তুলে দেয়া হয় নানা অাকর্ষণীয় পুরস্কার। অনুষ্ঠান শেষে আয়োজন করা হয় নৈশভোজের।

অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আহসান খান চৌধুরী বলেন, সব সদস্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রাণ কোম্পানি আরো বহুদূর এগিয়ে যাবে।

উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘মনের আনন্দ যোগাতেই আজকের এই আয়োজন। এর মধ্য দিয়ে প্রাণ পরিবারের সদস্যরা আরো কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস।’

সদস্যরা সবাই কোম্পানির অংশ উল্লেখ করে ডিএমডি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা নিয়েই প্রাণ গ্রুপ এগিয়ে যাচ্ছে। এই সহযোগিতা নিয়েই কোম্পানির আরো উন্নয়ন ঘটবে।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আজ বাবা নেই; কিন্তু বাবার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের মধ্যেই বাবার স্বপ্নকে খুঁজে পাই।’

এসময় পরিবার এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন আহসান খান চৌধুরী। 

অনুষ্ঠনে প্রাণের পরিচালক ইলিয়াস মৃধা বলেন, সকলের সহযোগিতা নিয়েই প্রাণ বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপ পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিজ পরিবারকেও গুরুত্ব দেয়ার অাহ্বান জানান তিনি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপনন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী কামরুজ্জামান কামাল বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবারের সদস্যরাও কোম্পানির সদস্য। কোম্পানির উন্নয়নে তাদেরও সমান অবদান রয়েছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হিসাব বিভাগের পরিচালক আতিউর রসুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রাণ কোটি পরিবারের কোম্পানি হবে। আর এটি সম্ভব হবে বর্তমান সদস্যদের নিরলস চেষ্টার ফলেই।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment