**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

অপহৃত সন্তানকে বাাঁচাতে পারলেন না দরিদ্র বাবা


গত দু’দিন ধরে ঘরে ফিরছে না ছেলে। আচমকা নিখোঁজের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলে বাবা-মাকে। হঠাৎ করেই মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ওই প্রান্ত থেকে কেউ এক জন নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে এক লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু দারিদ্রতার নির্মম পরিহাসে জীবন্ত ছেলের পরিবর্তে লাশ ফিরে পেলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। এক লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে সজিব মিয়া (৭) নামে এক শিশুকে হত্যা করে ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিখোঁজের দুই দিন পর তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ১নং ধানীখোলা ইউনিয়নের ধানীখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি ধান ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পরিবার জানায়, গত বুধবার দুপুরে নিখোঁজ হয় সজিব মিয়া। সন্ধ্যায় ০১৯৮৪৯৫৮২৯১ ও ০১৯৬৯২৭৪৭৫০ এই দুটি মোবাইল নম্বর থেকে সজিবের বড় ভাই রাজিবকে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। বিষযটি জানার পর ঢাকায় অবস্থানরত রাজিব ও তার মা রাতেই ত্রিশালে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আবারও ওই নম্বরগুলো থেকে রাতের মধ্যেই ময়মনসিংহে এক লাখ টাকা নিয়ে যেতে বলা বলা হয়। যদি রাতের মধ্যে টাকা নিয়ে ময়মনসিংহে না পৌছায় তবে সজিবকে হত্যা করা হবে বলে চক্রটি হুমকি দেয়।

দিন মজুর দরিদ্র বাবা মুক্তিপণ পরিশোধ করতে না পারায় বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় সজিবকে হত্যা করে ধানীখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে যায় তারা। সকালে স্থানীয়রা লাশ দেখে ত্রিশাল থানায় খবর দিলে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।

নিহত সজিবের ভাই রাজিব বলেন, ‘আমার মোবাইলে ফোন করে টাকা দাবি করলেও আমি তখন বুঝতে পারিনি। ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মেম্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করি। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও ফোন করে একই কথা বলে।’

এ ব্যাপারে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, শুক্রবার বিকেলে ধানীখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি ধান ক্ষেতে শিশুটির লাশ দেখে স্থানীয়রা তাদের খবর দেয়। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
সূত্র : বাংলামেইল২৪

Post a Comment