**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

ঢামেকে চা-পানির নামে টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য আদায়


ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চা পানি খাওয়ার নামে টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম চললে রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভুমিকা পালন করছে।

জানা গেছে, টিকিটের মূল্য তালিকা সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও তা অকার্যকর রয়েছে। ১০ টাকার টিকিট নেয়া হচ্ছে ১৫ টাকা আর ১৫ টাকার ভর্তি ফাইল নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা। এ নিয়ে প্রায় সময়ই কাউন্টারের কথা কাটাকাটি ও গোলযোগের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে রোগীর স্বজনদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।

এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) তদন্তে করে। তাদের তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলেও দিব্যি অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে টিকিট মাস্টাররা।

সরেজমিনে দেখা যায়,  কেউ নিরূপায় হয়ে আবার কেউবা না জেনেই টিকিট মূল্যের চেয়ে ৫ টাকা বেশি দিচ্ছেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার হতে সিনথিয়া নামের এক মহিলা তার ছোট ভাইকে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে আসেন।

তিনি জানান,  প্রথমে ১৫ টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছেন, এর পর ভর্তি করানোর সময় ২০ টাকার নোট দিয়ে ৫ টাকা ফেরত চান। এসময় ভর্তি ফাইল ২০ টাকা বলে জানান কাউন্টারে দায়িত্বরতরা। তবে সিনথিয়া সাইনবোর্ডে ভর্তি ফাইল ১৫ টাকা লেখা দেখালে দায়িত্বরতরা তার কথায় কর্ণপাত করেনি। অতিরিক্ত টাকা দিলেন কেন জাগো নিউজের এ প্রতিনিধি সিনথিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন কী করব, আমরা মহিলা লোক! তাদের সঙ্গে ঝগড়া করবো?

পবন। রাজধানীর সায়দাবাদ থেকে তার মাকে নিয়ে আসেন ঢামেকে। বয়সের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তার মা শুয়ে আছেন স্টেচারের উপর। তার হাতে দেখা যায় একটি টিকিট, একটি ভর্তি ফাইল ও সবুজ রঙের একটি গেট পাশ। টিকিট ও ভর্তি ফাইলের জন্য কত টাকা নেয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি জানান, টিকিট ১৫ ও ভর্তি ফাইল ২০ টাকা রাখা হয়েছে। টিকিট ও ভর্তির আসল মূল্য তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, আমার রোগীর অবস্থা খারাপ, এখন এসব দেখার সময় আছে!

অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়ে টিকিট কাউন্টার ইনচার্জ মো. আব্দুল বাতেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি হাসি মুখেই জানান, আরে এইটা কিছু না, দুই-এক জনের কাছ থেকে নেয়া হয়, সবার কাছ থেকে তো আর নেয়া হয় না, আর নেয়াও যায় না। তবে এসময় টিকিট কাউন্টারে নিয়জিত অন্য কর্মচারীরা এক বাক্যে জানান, চা-পানি খাওয়ার জন্য একটু বেশি রাখা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) খাজা আ. গফুর জানান, এ রকম কোন ভুক্তভোগি অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেব। আর যেহেতু আমরা আপনাদের মাধ্যমে অভিযোগ পেলাম এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment