কোনো ধরনের অপচয় পছন্দ করতেন না নবিজি [সা.]


অপচয় বিবেকবান কোনো মানুষেরই পছন্দেও কাজ হতে পারে না। কারণ অপচয় ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। হালাল কাজে চাহিদার বেশি খরচ করাকে অপচয় বলা হয়। যা কুরআনের ভাষায় ‘ইসরাফ’ বলা হয়। পবিত্র কুরআনে অপচয়কে শয়তানের কাজ বলা আখ্যায়িত করা হয়েছে। 

দৈনন্দিন জীবনে বুঝে কিংবা না বুঝে আমরা অনেক ধরনের অপচয় করি। বিনা প্রয়োজনে পানি ব্যয় করাও এক ধরনের অপচয় ও অন্যায়। রাসুল [সা.] বলেছেন, ‘তুমি যদি সাগর পাড়ে বসেও পানি অতিরিক্ত ব্যবহার করো, তাও অপচয় হবে।’ প্লেটে খাবার নিয়ে ফ্যাশন বা সৌজন্যবোধ মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার না খাওয়াও অপচয়। পবিত্র কুরানে ঘোষণা হয়েছে,‘এবং তোমরা আহার কর ও পান কর। কিন্তু অপচয় করো না। তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৩১)

অফিস-আদালত, বাসা-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, টয়লেটসহ অপ্রয়োজনীয় স্থানে প্রায়ই আমরা বিদ্যুতের অপচয় করি। বিশেষ করে কোনো দিবস বা অনুষ্ঠান হলে আলোকসজ্জা, লাইটিংয়ের নামে বিদ্যুতের অপচয় আমাদের জাতীয় জীবনে বিদ্যুৎ সংকট মহামারীর আকার ধারণ করেছে। যা রোধ করা সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

অপচয় একটি গর্হিত কাজ। এ প্রসঙ্গে রাসুল [সা.] বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বস্তু অপছন্দ করেন। যথা- ১. অনর্থক এবং বাজে কথা বলা; ২. নিষ্প্রয়োজনে সম্পদ নষ্ট করা এবং ৩. অত্যধিক প্রশ্ন করা।’(বুখারি) তাই আমাদের উচিত মধ্যম পন্থ্যা অবলম্বন করা। অবশ্য অপচয়ের বিষয়ে আমাদের করণীয় আল্লাহ তাআলা কুরআনে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘এবং যখন তারা ব্যয় করে তখন তারা অপচয় করে না, কার্পণ্যও করে না বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়।’ (সুরা ফোরকান : আয়াত ৬৭)। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অপচয় করা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

ফয়জুল আল আমীন
[ফয়জুল আল আমীন- ধ্রুপদী এক লেখক। পুরো নাম- সৈয়দ মুহম্মদ ফয়জুল আল আমীন। সৈয়দ শিশির নামে যিনি সমধিক পরিচিত। প্রবন্ধ-নিবন্ধ, কলাম, সাহিত্য সমালোচনা, গল্প, গবেষণা, কবিতা, ছড়াসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় যার সুদীপ্ত বিচরণ। দেশের প্রথম শ্রেণির প্রায় সব দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও ছোটকাগজে নিয়মিত লিখছেন প্রায় ২০ বছর ধরে। ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে তাঁর গুরু হলেন বাবা। আর সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে প্রকৃতি। ইসলাম ধর্মের নানা দিক ও বিষয় নিয়ে সুদীর্ঘ গবেষণা করেছেন ফয়জুল আল আমীন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রিপোর্টার, ফিচার লেখক, সাব-এডিটর, সহযোগী সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। একাধিক প্রকাশনা সংস্থায় সিনিয়র লেখক, সম্পাদক ও আরঅ্যা-ডি’র প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে পাঠকপ্রিয় একটি সাপ্তাহিকে চিফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।]

Source: Priyo

Post a Comment