লাইব্রেরিতে প্রবেশে ব্যতিক্রমী যুদ্ধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিদিন শত শত উচ্চশিক্ষিত বেকার তরুণ শিক্ষার্থীরা এক ব্যতিক্রমধর্মী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে! তবে এ যুদ্ধে লাঠিসোঠা কিম্বা প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহৃত হয়না। লড়াই হয় হাত ব্যাগের। 

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেবির সামনে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ছুটে আসতে হয়। 

সকাল সাড়ে ৭টায় প্রবেশদ্বার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। রীতিমতো যুদ্ধ করে কাঁধের ব্যাগটি নির্দিষ্ট একটি স্থানে রাখার মধ্যে দিয়ে এ যুদ্ধের ফলাফল নির্ণীত হয়! আবার ঘণ্টাখানেক বাদে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা ব্যাগের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পাবলিক লাইব্রেরির ভেতরে প্রবেশের মাধ্যমে  শেষ হয় এ যুদ্ধ।  

সম্প্রতি সরজমিনে জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের চোখে ব্যতিক্রমধর্মী ওই যুদ্ধের চিত্র ধরা পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাষ্টার্স ডিগ্রিধারি শিক্ষার্থীরা বেকারত্ব ঘোচাতে প্রতিদিন গণগ্রন্থাগারে নির্বিঘ্নে বসে পড়াশুনা করার জন্য এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন। 

প্রধান ফটক দিয়ে পাবলিক লাইব্রেরির ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেল সারিবদ্ধভাবে বিপুল সংখ্যক ব্যাগ মাটিতে পড়ে রয়েছে। ব্যাগের মালিকরা কেউ কাছে নেই। তারা ভেতরের ক্যান্টিন ও এর আশেপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।  

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গয়েসপুর গ্রামের মো. সারওয়ার আলম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে পলিটিক্যাল সায়েন্সে মাষ্টার্স পাশ করলেও এখনও চাকরি পান নি। বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন, সরকারি বেসরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু হচ্ছে না। তাই বলে হাল ছাড়েননি তিনি। একদিন ভাল চাকরি হবে এ আশায় পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, পাবলিক লাইব্রেরির ভেতরে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলেও একটু কোলাহলমুক্ত পরিবেশে নিরিবিলি মনোযোগ সহকারে পড়াশুনা করতেই বেকার যুবকদের একটি অংশ কাকডাকা ভোরে এসে লাইনে ব্যাগ রাখে। দেরিতে আসলে সামনের দিকে বসতে হয়। ওখানে হৈচৈ হওয়ায় পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটে।
মো. বিপুল হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে ২০১১সালে মাষ্টার্স পাশ করেছেন। তিনি জানান, সেশন জটের কারণে পড়াশুনায় বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে পড়তে হয়। এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করে চলেছে। শুক্রবার ছুটির দিন ছাড়া বাকি ছয়দিনই এখানে এসে পড়াশুনা করি। নিরিবিলি স্থানে পড়াশুনার সুযোগ পেতে আসন দখল করতে ভোরে চলে আসি।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিলীমা চৌধুরী নামে একজন শিক্ষার্থী জানান, আগে সরাসরি শিক্ষার্থীরা পাবলিক লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতো। একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর এখন লাইনের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। 

শিক্ষার্থীদের সকলেই কাকডাকা ভোরে এসে শাহবাগ যাদুঘর সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরীর গেট খোলা মাত্র দৌড়ে লাইনে ব্যাগ রেখে সরে যান। সকাল ৮টায় লাইব্রেরী গেট খোলার ঠিক আগ মুহুর্তে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ব্যাগের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। 

চাকরির বাজারে যে প্রতিযোগিতা শুধু সার্টিফিকেট থাকলেই হবেনা, পাশ করেও ইন্টারভিউয়ের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করতে হয়। তাইতো তাদের এ নিত্যদিনের ব্যতিক্রমধর্মী যুদ্ধে অংশগ্রহণ বলে নিলীমা মন্তব্য করেন। 
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment