গোয়েন্দা অফিসের সামনে গাড়ি ও চিঠি রেখে গেল মালিক


কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধার আওতায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সিলেটে নিয়ে আসা ‘লেক্সাস ব্র্যান্ডের একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট কার জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। 

মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে গাড়িটি নগরের আম্বরখানা বড়বাজারে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অফিসের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মুখে পাওয়া যায়।

বুধবার বেলা তিনটায় সিলেট শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিচালক প্রভাত কুমার সিংহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, গাড়িটির সঙ্গে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে গাড়িটি শুল্ক বিভাগে হস্তান্তরের কথা জানানো হয়েছে। গাড়িটির মালিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লন্ডন প্রবাসী।

প্রভাত কুমার সিংহ জানান, বিলাসবহুল লেক্সাস গাড়িটি ২০০৭ সালে তৈরি। চেসিস নম্বর জেটিজেএইচকে ৩১ইউ৬০২০১৫৭৮২। ইঞ্জিন নম্বর ২জিপিএ০৫৬৯৬৪। পাঁচ সিটের সিলভার রঙের এই গাড়িটির আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, গাড়িটি ২০১১ সালে ইউকে থেকে কেনা। পরে গাড়িটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে এনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চালানো হচ্ছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে লেখা চিঠিতে গাড়ির মালিক উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধার আওতায় তিনি গাড়িটি এক বছর মেয়াদের জন্য সিলেটে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তিনি এ সুযোগ আর বৃদ্ধি করতে পারেননি। 

এমনকি ট্যাক্স পরিশোধের সক্ষমতাও তার বাইরে থাকায় তিনি তা পরিশোধ করেননি এবং গাড়িটিও আর ব্যবহার করেননি। বর্তমানে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি গাড়ি ক্রয়ের মালিকানা দ্রুত সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রদানের অঙ্গীকার করেন।

তিনি কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হবেন না-চিঠিতে এ নিশ্চয়তা চেয়ে ওই প্রবাসী বলেন, বাহক মারফত গাড়িটি আপনার বরাবরে প্রেরণ করলাম। গাড়িটি দেশে রাখা কিংবা পুনরায় বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সমুদয় শুল্ক করাদি পরিশোধের হিসাব জানার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

প্রভাত কুমার সিংহ জানান, প্রবাসীর এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান। 

তিনি বলেন, গাড়ির মালিক সঠিক দলিলাদি উপস্থাপনের মাধ্যমে যদি নিজের মালিকানা প্রমাণ করতে পারেন-তবে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১০ এপ্রিল সিলেট নগরীর আম্বরখানা বিএম টাওয়ার থেকে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মালিকানাধীন একটি ‘মার্সিডিজ বেঞ্জ’ উদ্ধার করা হয়। এর ১০ দিনের মাথায় সিলেট থেকে আরেকটি বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করা হলো।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment