আলাউদ্দিন মার্কেটে আগুন গ্যাস বিস্ফোরণে



লিফট ছিঁড়ে নয়, জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের কারণে রাজধানীর উত্তরাস্থ ট্রপিক্যাল আলাউদ্দিন টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস সদর দফতর ও দুর্ঘটনার পরবর্তীতে গঠিত তদন্ত কমিটি সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, ওই মার্কেটে ছিল তিতাস কোম্পানির গ্যাসের লাইন। পূর্বানুমান থাকা সত্ত্বেও কেন ওই ভবনের গ্যাসের লাইন মেরামত করা হয়নি তা জানতে চাওয়া হবে এবং তিতাসের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করতে পারে ফায়ার সার্ভিস।

সূত্র আরো জানায়, সংশ্লিষ্ট মার্কেট তত্ত্বাবধানকারী কমিটির সুষ্ঠু তদারকি ছিল না। গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাসেরও ছিল অবহেলা। 
 
গত ২৪ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উত্তরার ট্রপিক্যাল আলাউদ্দিন টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সের মার্কেটের প্রধান ফটকের বাম পাশের ক্যাপসুল লিফট ছিঁড়ে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে ডান পাশের লিফটিও ছিঁড়ে পড়ে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট সাতজনের প্রাণহানি ঘটে। 

ওই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, লিফট ছিঁড়েই দুর্ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে উঠে আসে ২০১২ সালে ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও।
 
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ ঘটনার রাতে জানান, ভবনটির বেজমেন্টের কলামে ক্র্যাক পাওয়া গেছে। বিষয়টি রাজউককে জানানোর পাশাপাশি আমরাও তদন্ত করবো।  

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। সেখানে মার্কেটের গ্রাউন্ডফ্লোর পরিদর্শনে প্রথমেই আমার মনে হয়েছিল লিফট ছিঁড়ে নয়, বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ড ও গ্লাস ভেঙে বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছিল।
 
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতর জানায়, হতাহতের ঘটনা ও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওই কমিটির এক সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, লিফট ছিঁড়ে নয়, গ্যাসের আগুনে আলাউদ্দিন মার্কেটে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। যদিও সবার দৃষ্টি ছিল লিফটের দিকে। তদন্তের পর গ্যাসের বিষয়টি উঠে আসে।
 
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ওই ভবনে গ্যাসের লাইনে ক্রটি রয়েছে। বিষয়টি মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহাকারি প্রতিষ্ঠান তিতাসকে জানানো সত্ত্বেও ত্রুটি সারানো হয়নি। তিতাসের তদারকির অভাব, দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করায় গ্যাস জমে যায়। ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে সবাই লিফট প্রতিষ্ঠানের দিকে আঙুল উঠালেও এতে মার্কেট ও তিতাসের দায় পাওয়া গেছে। 

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে ঈদের পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। ফায়ার সার্ভিস তিতাসের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতিও নিয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এতো বড় বিষয়ে বলা সম্ভব না। ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি কাজ করছে। তবে মার্কেট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব ও গাফলতি লক্ষ্য করা গেছে।
 
ডিএমপির উত্তরা বিভাগ পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিধান ত্রিপুরা জাগো নিউজকে বলেন, মার্কেটে হতাহতের ঘটনায় একটা ইউডি মামলা হয়েছে। পুলিশ ও তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ ও স্ব স্ব অবস্থান জানতে তিতাস, বিদ্যুতৎ, মার্কেট কমিটি, লিফট নির্মাণকারি প্রতিষ্ঠান সকলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি যে মতামত (এক্সপার্ট অপিনিয়ন) দেবে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪

Post a Comment