**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

সেহরির জন্য প্রতিবেশীদের ডাক দেয় এক হিন্দু পরিবার

৪৫ বছর বয়সী গুলাব যাদব ও তার ছেলে অভিষেক প্রত্যেক মুসলিম প্রতিবেশীর দরজায় ধাক্কা দেন, ওই প্রতিবেশী ঘুম থেকে না জাগা পর্যন্ত তারা চলে যান না। ছবি: এনডিটিভি 
ভোররাত ৩টায় বেনারসি শাড়ি তৈরির জন্য বিখ্যাত উত্তর প্রদেশের মুবারকপুরের গ্রামের সবাই ঘুমিয়ে আছে। শুধু একজন মানুষ ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে জেগে রয়েছে।

রাত ১টায় এ দুজন তাদের কাজ শুরু করেছেন। সেহরির জন্য প্রতিবেশী মুসলিম পরিবারগুলোকে ডেকে দিতে পরবর্তী দুই ঘণ্টা ধরে হেঁটে বেড়াবেন পিতা-পুত্র, জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রতি রোজার সময় এ কাজ করেন তারা। সেহরির সময় প্রতিবেশী মুসলিমদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন।

৪৫ বছর বয়সী গুলাব যাদব ও তার ছেলে অভিষেক প্রত্যেক মুসলিম প্রতিবেশীর দরজায় ধাক্কা দেন, ওই প্রতিবেশী ঘুম থেকে না জাগা পর্যন্ত তারা চলে যান না।

যাদবের বাবা চিরকিত যাদব ১৯৭৫ সাল থেকে এ কাজ করতে শুরু করেন। কেন তার বাবা এ কাজ শুরু করলেন তা বলতে পারেননি গুলাব। তিনি তখন খুব ছোট থাকায় এর কারণটি বুঝতে পারেননি, কিন্তু তাই বলে যাদব পরিবারের ঐতিহ্যে পরিণত হওয়া কাজটি বন্ধ করে দেননি।

তিনি বলেন, “আমার ধারণা এটি আপনাকে শান্তি দেয়। এটা তাই। আমার বাবার পর আমার বড় ভাই কয়েক বছর এ কাজ করেছে, তারপর আমি এটি করতে শুরু করি। প্রতি রোজার সময় আমি গ্রামে ফিরে আসি।”

পেশার প্রয়োজনে দিল্লিতে থাকেন গুলাব, কিন্তু প্রতি রমজানে উত্তর প্রদেশের আজমগর জেলার নিজ গ্রামে ঠিকই ফিরে আসেন।
শফিক নামে গুলাবের এক প্রতিবেশী জানান, যখন তার বয়স চার বছর তখন থেকে এ ঐতিহ্যের শুরু।

তিনি বলেন, “এটি খুব প্রশংসনীয় কাজ। তিনি পুরো গ্রাম চক্কর দেন, এতে দেড় ঘণ্টার মতো লাগে। তিনি প্রত্যেক বাড়িতে দুবার করে যান। আজানের আগে আগে সবাই যেন সেহরি খেতে পারে তা নিশ্চিত করতে চান তিনি।

“এর চেয়ে পবিত্র কাজ আর কী হতে পারে,” বলেন শফিক।

আগামী বছর উত্তর প্রদেশের বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যটিতে এরই মধ্যে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।

গেল কিছুদিন ধরে বিজেপি অভিযোগ করছে, মুসলিম অধ্যুষিত কাইরানা টাউন ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে এর হিন্দু বাসিন্দারা।

কিন্তু আজমগরের যাদব এসব রাজনীতির এক তীব্র প্রতিবাদ হয়ে নীরবে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪


Post a Comment