ষাঁড়টি দেখুন, তার রোজগার নরেন্দ্র মোদির আড়াই গুণ


তার নাম যুবরাজ সিংহ। বছর শেষে সিমেন বেচে উপার্জন প্রায় ৫০ লাখ রুপি বা ৫৮ লাখ টাকা। উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি।

তবে উনি ভারতরে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নন, ‘মাত্র’ ১৪০০ কেজি ওজনের একটি হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়।

ষাঁঢ়টি সিমেন বিক্রি করে বছরে যা উপার্জন করেন তা ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বার্ষিক আয়ের আড়াই গুণ। মোদির বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ২০ হাজার রুপি।

কিছু দিন আগেই যুবরাজকে ভারতের সেরা গবাদি পশু হিসাবে বেছে নিয়েছেন ১০ সদস্যের জুরি বোর্ড। দাম উঠেছিল সাত কোটি টাকা! কিন্তু যুবরাজের ‘পিতৃবৎ’ মালিক কর্মবীর সিংহ জানিয়ে দিয়েছেন, জীবনের সব কিছু মোটেও বিক্রয়যোগ্য নয়। যুবরাজকে তিনি নিজের ছেলের মতোই ‘মানুষ’ করে তুলেছেন।

কোটিপতি এই ষঁড়টির খোড়াকিও কিন্তু নেহাত কম নয়। যুবরাজের দৈনিক ডায়েটে রয়েছে ২০ লিটার দুধ, ৫ কেজি আপেল, ১৫ কেজি গো খাদ্য।

তার দেখভালেই মাসে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় কর্মবীরের। তবে যুবরাজ কিন্তু পরিবারের খেয়াল রাখে। মাসে পাঁচ লাখের মত ইনকাম তার। মধ্য বয়স্ক পালক পিতার হাতে তার পুরোটাই তুলে দেয় সে।

যুবরাজ মুরাহ ব্রিডের অত্যন্ত উচ্চমানের প্রজাতির ষাঁড়। দিনে সাড়ে তিন থেকে পাঁচ মিলিলিটার উচ্চমানের সিমেন দেয় সে। সেটাকে পাতলা করে ৩৫ মিলিমিটারের সিমেন সল্যুউশন পাওয়া যায়।

মুরা ব্রিডের গাভিদের কৃত্রিমভাবে নিষিক্ত করতে যুবরাজের সিমেনের ব্যাপক চাহিদা। মোটামুটি ০.২৫ মিলিমিটার সিমেনই নিষেকের পক্ষে যথেষ্ট। এইটুকু সিমেনের বাজারি দর দেড় হাজার টাকা। অর্থাৎ ওই সিমেন বেচে যুবরাজ দিনে প্রায় ৩০ হাজার টাকা অবধি উপার্জন করতে পারে।

তবে সিমেন বেচে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাছুরের জেনেটিক বাবা হয়ে গেলেও, যুবরাজের কিন্তু এখনো কোনো সঙ্গিনী জোটেনি। এই প্রবল ‘ষাঁড়ের’ খুব শিগগিরি একটি শক্তিশালী প্রেয়সী খুঁজছেন কর্মবীর।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Post a Comment