ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টারে রোনালদোর পর্তুগাল


নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ। কেউ কারও জালে বল প্রবেশ করাতে পারেনি। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলা। তাতেও বিরক্তিকর খেলা উপহার দিয়ে যাচ্ছিল পর্তুগাল এবং ক্রোয়েশিয়া। কারও যেন গোল করার চিন্তা নেই। খেলাটা টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে পারলেই বাঁচি- এই যেন চিন্তা-ভাবনা সবার। টাইব্রেকারের বাঁশি বাজতে তখন আর মাত্র তিন মিনিট বাকি।

এ সময়ই পাল্টা এক আক্রমণে মাঝ মাঠ ধরে বল নিয়ে ছুটলেন রেনাতো সানচেজ। ডান পাশে ক্ষিপ্রতার সাথে দৌড়ানো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বার বার চিৎকার করছিলেন তাকে বল দেয়ার জন্য। সানচেজের সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। বল নিয়ে তো ছুটছেনই। হঠাৎ সানচেজ পাসটা বাড়িয়ে দিলেন বাম পাশে থাকা ন্যানিকে। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডাররা তাকে ঘিরে ধরেছিল।

কিন্তু ন্যানি বলটা নিয়ন্ত্রনে নিয়েই পাস দিলেন চিতার গতিতে দৌড়ে আসা রোনালদোকে। বল পেয়েই জোরালো শট নিলেন তিনি; কিন্তু গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিক দিলেন বলটা ফিরিয়ে। ফিরতি বলটা গিয়ে পড়লো রিকার্ডো কোয়ারেসমার পায়ে। সম্পূর্ণ ফাঁকা। আলতো শটে ফিরতি বলটা জড়িয়ে দিলেন জালে। ১১৭ মিনিট পর আচমকা এই গোলেই (১-০ ব্যবধানে) কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটে নিল পর্তুগাল। কোয়ার্টারে পোল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।

Cristiano-Ronaldo

ক্রোয়েশিয়া ছিল এবারের চমক জাগানিয়া একটি দল। গ্রুপ পর্বে স্পেনের মত শক্তিশালি দলকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই এসেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর পর্তুগাল ছিল নিষ্প্রভ একটি দল। গ্রুপ পর্বে কোন ম্যাচই জিততে পারেনি। আবার কোনটা হারেওনি। তিন ম্যাচের সবগুলোই ড্র করে সেরা তৃতীয় দল হওয়ার সুবাধে উঠে এসেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে।

এ কারণেই মূলতঃ এই ম্যাচটি ছিল সবার আগ্রহের কেন্দ্রে। কিন্তু ম্যাচটা ফুটবল ভক্তদের দিল বিরক্তিকর এক অভিজ্ঞতা। পুরো ম্যাচটাই ছিল নিষ্প্রভ। আক্রমণ আর প্রতি আক্রমণের পসরা সাজিয়ে যে ম্যাচটি হয়ে ঠার কথা ছিল দুর্দান্ত, সেটিই কি না হয়ে উঠলো নিষ্প্রাণ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ছিলেন অনেকটা আড়ালে। নিজেকে মেলেই ধরতে পারেননি। মডরিচ, র্যাকিটিকরা ভালো খেলেও শেষ মুহূর্তের ওই এক গোলেই ক্রোয়াটদের হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে নিল পর্তুগিজরা।

প্রথম দুই ম্যাচে সিষ্প্রভ থাকার পর হাঙ্গেরির বিপক্ষে রোনালদো যেভাবে ফিরেছিলেন, তাতে ফুটবলপ্রেমীরা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও তার কাছ থেকে দুর্দান্ত একটা গোল দেখার আশায় ছিল। ছিল তার পায়ের কিছু স্টেপওভার দেখার অপেক্ষায় কিংবা স্পটজাম্প করে হেড। নাকলবল ফ্রি-কিকে চোখ ধাঁধানো গোল। সব শেষে সেই ‘ইনক্রেডিবল’ সেলিব্রেশন। 

কিন্তু হাঙ্গেরির বিপক্ষের সেই ফর্ম আর আনতে পারলেন না সিআর সেভেন। হাই ডিফেন্সিভ লাইন নিয়ে রোনালদোকে আটকাতে পারেনি হাঙ্গেরি। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে এ দিন ক্রোয়েশিয়া ৪-৫-১ ফরমেশনে দল সাজিয়ে নেয়। অর্থাৎ পাঁচ জন মিডফিল্ডার নিয়ে ব্লক করে দেওয়া। যাতে মাঝমাঠেই রোনালদো আটকে যান। ঠিক হলও সেটাই।

পর্তুগালের অর্ধেক মুভ ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠে এসেই আটকে যায়। ন্যানির সঙ্গে ডাবল স্ট্রাইকারে শুরু করলেও উইংয়েই বেশিরভাগ খেলেন রোনালদো; কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ তাকে বলের ধারেকাছে আসতে দেয়নি। প্রতিটা বলের জন্য মডরিচ-র্যাকিটিকরা লড়াই করেন। রোনালদোর সঙ্গে গোমেস, ন্যানিদের কোনও কম্বিনেশনও তৈরি করতে দেয়নি ক্রোয়েশিয়া মাঝমাঠ।

চোরলুকা-ভিদার সেন্টার ব্যাক জুটিও আঁটসাট ছিল। বল এলেই ক্লিয়ার করে দিচ্ছিলেন তারা। নো-ননসেন্স ডিফেন্স বলতে যা বোঝায়। ক্রোয়েশিয়া জানত, রোনালদোকে বেশি বল ধরতে দিলেই বিপদ। যত কম বলের পজেশন পাবেন রোনালদো ততটাই হতাশ হয়ে পড়বেন।

সূত্রঃ জাগেনিউজ২৪


Post a Comment