গঙ্গা যেখানে গুপ্ত, সেই মন্দিরের কথা জানেন কি?


রাজস্তানের জয়পুরের মূল পর্যটন-মানচিত্রে এই জায়গাটি তেমনভাবে পড়ে না। মানে, জয়পুর বেড়াতে গেলে ট্যুরিস্ট-গাইডরা সাধারণত গলতাজি-র কথা পর্যটকদের কাছে পাড়েন না। অথচ আরাবল্লগ পাহাড়ের কোল ঘেঁষা এই ‘প্রাসাদ’টি আসলে একটি মন্দির কমপ্লেক্স। একটু সুলুক-সন্ধান করেই পৌঁছতে হয় এখানে। 

রাজস্তানের জয়পুরের মূল পর্যটন-মানচিত্রে এই জায়গাটি তেমনভাবে পড়ে না। মানে, জয়পুর বেড়াতে গেলে ট্যুরিস্ট-গাইডরা সাধারণত গলতাজি-র কথা পর্যটকদের কাছে পাড়েন না। অথচ আরাবল্লগ পাহাড়ের কোল ঘেঁষা এই ‘প্রাসাদ’টি আসলে একটি মন্দির কমপ্লেক্স। একটু সুলুক-সন্ধান করেই পৌঁছতে হয় এখানে।


প্রথম দর্শনে গলতাজি-কে একটি দুর্গ বলে মনে হয়। কিন্তু প্রবেশের পরেই ভুল ভাঙে, বোঝা যায় রাজস্থানের চিরাচরিত দুর্গগুলির সঙ্গে এর একটা মূলগত পার্থক্য রয়েছে— এখানে কোথাও রণ-রক্ত-সফলতার গল্প নেই। মোটামুটিভাবে ১৫০০ সাল থেকে এখানে তীর্থযাত্রীরা আসতে শুরু করেন বলে জানা যায়। কন্তু আজকের গলতাজি মন্দির নির্মিত হয় ১৮ শতকে। রাজা দ্বিতীয় সওয়াই জয়সিংহের দেওয়ান রাও কৃপারাম এই মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণ করান। 


তবে, এই মন্দিরের বিশেষত্ব মোটেই এর ইতিহাসে নয়। এর বৈশিষ্ট্য নিহিত রয়েছে পুরাণ এবং কিংবদন্তিতে। পরম্পরাগত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানে ঋষি বিশ্বামিত্রের শিষ্য মহর্ষি গালবের আশ্রম ছিল। তিনি তাঁরা আশ্রমে পুণ্যস্নানের জন্য ভারতের পবিত্র নদীগুলির জল এখানে কয়েকটি কুণ্ডে একত্র করেন। আজও সেই কুণ্ডগুলি বিদ্যমান। এই সব কুণ্ডে স্নান করার জন্য মকর সংক্রান্তির দিন বিপুল জনসমাগম হয়।


কুণ্ডগুলির মধ্যে সবথেকে প্রসিদ্ধ হল গলতা কুণ্ড। অনেকে একে ‘গুপ্তগঙ্গা’ বলেও ডেকে থাকেন (কাশ্মীরের বিখ্যাত তীর্থটির সঙ্গে অবশ্য এর কোনও সম্বন্ধ নেই)। আশ্চর্যের বিষয়, দুর্দান্ত গ্রীষ্মেও এই কুণ্ডের জল শুকোয় না। বিশ্বাস এই— কোনও এক গোপন সংযোগে এখানে নিরন্তর প্রবেশ করে গঙ্গার জল। নিকটবর্তী কোনও ঝরনা থেকে এই জল আসতেই পারে। সম্ভবত তা-ই আসে। কিন্তু গালবের কাহিনি লোকবিশ্বাসকে স্থিত রাখে ‘গুপ্তগঙ্গা’-য়। 



আর একটি বিস্ময় এই মন্দিরে রয়েছে, সেটি এখানে রক্ষিত শালগ্রাম শিলার সংগ্রহ। এখানো সে অর্থে কোনও দেবমূর্তি নেই। রয়েছে এই বিষ্ণুশিলাগুলিই। কমপ্লেক্সের শীর্ষে রয়েছে সূর্য মন্দির। সেখানে গ্রীষ্মে প্রবেশ করাই দুরূহ। কারণ, আরবল্লীর উপরে পড়া সূর্যের দুর্দান্ত তাপ। 

সূত্রঃ এবেলা

Post a Comment