প্রেমিকের সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ মৃত প্রেমিকার!


আত্মারা কি ভাবতে পারে? তাদের এত কার্যকলাপের কথা শোনা যায়, কিন্তু তাদেরও কি অনুভূতি আছে? এ নিয়ে অনেক সন্দেহ, জল্পনা কল্পনা৷ তবে কিছু কিছু ঘটনা প্রমাণ করে আত্মাদেরও অনুভূতি আছে৷  আজকের ঘটনাটি  গুয়াহাটির এক যুবকের৷ ২২ বছরের জীবনে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁর দেখা হল কোনো অশরীরীর সঙ্গে৷ যেখানে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে মানুষের সম্পর্কে একের পর এক ভাঙছে, সেখানে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটই অশরীরী এবং মানুষের যোগাযোগের সেতু হয়ে গেল।

২২ বছরের অর্ক সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট অ্যাডিক্ট৷ দিন-রাত ফেসবুকে বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মজে থাকতে ভালবাসেন তিনি৷ গুয়াহাটির কাছেই একটি শহরের বাসিন্দা অর্কর এক বান্ধবী ছিলেন ফেসবুকে৷ নাম রোজি৷ দিনরাত রোজির সঙ্গে গল্প আড্ডার ছলে অর্ক বুঝতেই পারেননি কখন তিনি বান্ধবীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু সাহস করে কোনোদিন নিজের মনের কথা তিনি বলতে পারেননি রোজিকে৷ তাঁর ভয় ছিল একটাই, পাছে মনের কথা বললে বন্ধুত্ব ভেঙে যায়৷ এই ভয়ে নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতেন তিনি৷ কিন্তু এরপরই একদিন খারাপ খবরটি আসে৷ ফেসবুক মারফতই অর্ক জানতে পারেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রোজি৷ খবরটা জানতে পেরে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন অর্ক৷ এরপর রোজির পুরনো প্রোফাইলটিতেও ঘুরে বেড়াতেন বহুদিন৷ কিন্তু সময় তো কারো জন্য থেমে থাকে না৷ তাই কালের নিয়মেই অতীত ভুলে এগিয়ে গিয়েছিলেন অর্ক৷

নতুন বন্ধুদের সঙ্গে ধীরে ধীরে আগের মতো মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন৷ যখন অর্ক নিজের মতো করে জীবনে এগোবার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই একদিন রাতে অর্কর ফেসবুকে একটি মেসেজ আসে৷ মেসেজটা ছিল রোজির অ্যাকাউন্ট থেকে৷ রোজির প্রোফাইল থেকে মেসেজ পাওয়ায় একটু অদ্ভুতই লেগেছিল অর্কর৷ তাঁর যুক্তিবাদী মন ভেবেছিল নিশ্চয়ই রোজির ছোট বোন জুলি দিদির প্রোফাইল থেকে তাঁকে মেসেজ করেছেন৷ তার সন্দেহ দূর করতে অর্ক প্রশ্ন করেন ‘আপনি কে?’ ‘স্টুপিড আমি রোজি৷ এর মধ্যেই ভুলে গেলে?’ উত্তর আসে উল্টোদিক থেকে৷ এই উত্তরে বেশ রেগে গিয়েছিলেন অর্ক৷ ধৈর্য রাখতে না পেরে উত্তর দেন, ‘বাজে কথা বোলো না৷ আমি জানি তুমি ওর বোন৷ আমি রোজিকে খুব ভালবাসতাম৷ আর আমি জানি যে ও মারা গেছে৷’ ‘স্টুপিড! আগে বলোনি কেন? আমিও তো তোমায় খুব ভালবাসি৷’ উত্তরটা দেখে অর্ক এক মুহূর্তও না ভেবে বলেছিলেন, 'তুমি যদি সত্যিই রোজি হও তবে তার প্রমাণ দাও'৷ ‘ঘরের আলো জালাও৷ আমি একটু দেখি আমার বয়ফ্রেন্ডকে৷’ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের আলো জালান অর্ক৷ উল্টোদিক থেকে মেসেজ আসে, ‘বাহ ট্রাউজারে আমার বয়ফ্রেন্ডকে তো বেশ আকর্ষণীয় লাগছে৷’ তিনি কী পোশাক পরে আছেন তা ফেসবুকের বান্ধবী জানলেন কী করে, এই প্রশ্নই মাথায় ঘুরছিল অর্কর৷ পাশাপাশি, একমাত্র রোজিই অর্ককে ‘স্টুপিড’ বলে ডাকতেন।

এবার গোটা ঘটনায় ভয় পেয়ে যান অর্ক৷ পাশের ঘরে মা-বাবা ঘুমিয়েছিলেন৷ ওই রাত দেড়টার সময়ই তিনি গোটা ঘটনাটি বাবা-মা’কে জানান৷ সেই রাতে তাঁর বাবা তাঁর সঙ্গে থাকেন৷ এরপর ভয়ের চোটেই রোজিকে ফেসবুকে ব্লক করে দেন অর্ক৷ যাতে রোজির কোনো মেসেজ তার কাছে না পৌঁছায়৷ কিন্তু আজ অবধি অর্ক একা থাকলে অনুভব করেন যেন কেউ৷ তাঁর সব কাজে লক্ষ্য রেখে চলেছেন।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

Post a Comment