আইএস আর জেএমবির মধ্যে কতটা সম্পর্ক আছে?


বাংলাদেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক শনিবার বলেছেন, শোলাকিয়ার ঈদের সকালে হামলা এবং ঢাকার গুলশানে রেস্তোরাঁয় হামলা - এই দুটোই নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী জামা'তুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) কাজ।

তার কথা, শোলাকিয়ার ঘটনায় যে গ্রেফতার হয়েছে - তার প্রাথমিক জবানবন্দীতে সে স্বীকার করেছে যে দুটো ঘটনাই জেএমবি সদস্যদের কাজ।

তবে ইন্টারনেটে দেখা যাচ্ছে, গুলশানের আক্রমণসহ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বেশির ভাগ জঙ্গি হামলারই দায়িত্ব স্বীকার করছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। যদিও শোলাকিয়ার হামলার ক্ষেত্রে আইএসের দায়িত্ব স্বীকারের কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে শহীদুল হকের বক্তব্য হলো, ‘যেখানেই ঘটনা ঘটে - আইএস সেখানেই তা দাবি করে। তবে আইএস এ দাবি কেন করে - এই লিংকটা আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি।

বাংলাদেশের জঙ্গি হামলাগুলোর সাথে ইসলামিক স্টেটের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারটি অস্বীকার করে থাকেন সরকারের একাধিক মন্ত্রীও। তারা বলেন, বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং এগুলো স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনেরই কাজ।

বাংলাদেশে জেএমবি একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। 

কিন্তু ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে জেএমবির এক ধরণের সম্পর্কের একটা ধারণা পাওয়া যায় আইএসএর মুখপত্র ‘দাবিক’-এর নিকট অতীতে প্রকাশিত কিছু নিবন্ধ থেকে। এতে স্পষ্টই বলা হয়, জেএমবিকে বাংলাদেশে তাদের ঘনিষ্ঠতম সংগঠন বলেই মনে করে আইএস।

দাবিকের দ্বাদশ সংখ্যায় এক নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে একমাত্র জামা'তুল মুজাহিদীনই (জেএমবি) যথার্থ ‘জিহাদি’ সংগঠন।

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিদেশি নাগরিক, ব্লগার, লেখক, প্রকাশক থেকে শুরু করে সমকামী অধিকারকর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক অনেকগুলো হামলারই দায়িত্ব স্বীকার করে আইএস - এমন খবর দেয় জিহাদি তৎপরতা নজরদারির ওয়েবসাইট সাইট ইন্টিলিজেন্স (এসআইটিই)।

এ সম্পর্কে দাবিক-এর ‘বেঙ্গলে জিহাদের পুনরুত্থান’ নামের নিবন্ধে বলা হয়, খিলাফাহ'র সৈন্যরা ইসলামিক স্টেটের নেতৃত্বের আদেশ পেয়েই ‘ক্রুসেডার ও তার সহযোগীদের ওপর’ হামলা চালিয়েছে। এ থেকে অনেকেই বলতে পারেন, বাংলাদেশে আইএস সরাসরি না থাকলেও তাদের ‘অনুমোদিত সংগঠনের’ তৎপরতা আছে।

কয়েকদিন আগেই সাইটে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সিরিয়ার রাক্কা শহর থেকে ‘তিন জন বাংলাদেশি আইএস যোদ্ধা’ গুলশানের আক্রমণের প্রশংসা করে বাংলায় বক্তৃতা করছেন, আরও হামলার হুমকি দিচ্ছেন।


দাবিকের ওই নিবন্ধে বলা হয়, বেঙ্গলের সরকার যতই বলুক ‘বাংলাদেশে আইএস নেই’, কিন্তু ‘তিউনিসিয়া থেকে বেঙ্গল পর্যন্ত আইএস আছে এবং থাকবে’।

বাংলাদেশের আইজিপি শহিদুল হক বলেন, আইএস-এর এই জঙ্গি হামলার কৃতিত্ব দাবিটা কাদের মাধ্যমে করা হয়, কারা এই তথ্য দেয়, কি জন্য করে – ‘এই লিংকটা’ তারা এখন বের করার চেষ্টা করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে ধারণা হয় যে গুলশানে হামলাকারীদের সাথে আইএসের সংবাদসংস্থার ইন্টারনেটে এমনই যোগাযোগ ছিল যে পুলিশে ঘেরা হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর ভেতর থেকেই তারা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবি পাঠিয়েছে।

কিন্তু এটা ঠিক যে বাংলাদেশে এ ধরণের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সমন্বয় কোথা থেকে এবং কিভাবে হয় তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর কোনো একক সমন্বয়কারী আছেন কিনা তাও এখনো অজানা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা/প্রিয়

Post a Comment