লাইলাতুল কদর প্রাপ্তিতে যা বর্জনীয়



লাইলাতুল কদর মুসলিম উম্মাহর একান্ত  চাওয়া-পাওয়া।   ইসলামের দৃষ্টিকোণে শবেকদরের গুরুত্ব অপরিসীম। এই তাৎপর্যপূর্ণ রাতের বর্জনীয় ও করণীয় দিকগুলো হলো-

অতিরিক্ত না ঘুমানো
রমজানের শেষ দশকের ইবাদাত-বন্দেগি ও ই’তিকাফের জন্য বিশ্বনবি কোমরে কাপড় বেধে লেগে যেতেন। কারণ একটাই লাইলাতুল কদর প্রাপ্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। কারণ শেষ দশকের যে কোনো বিজোড় রাতেই লাইলাতুল কদর নিহিত।

সুতরাং রাত জেগে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়নসহ জিকির-আজকারে নিঘুম রাত কাটানোই লক্ষ্য। এ জন্য লাইলাতুল কদরের রাতে অতিরিক্ত না ঘুমিয়ে ইবাদাত বন্দেগি করা। হাদিসে এসছে, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান এবং সওয়াবের আশায় ইবাদতের জন্য আল্লাহর দরবারে দাঁড়াবে, তার অতীতের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’

অধিক ভোজন ত্যাগ করা
রাত জেগে ইবাদাত-বন্দেগি করতে সুস্থ সবল দেহ ও মন প্রয়োজন। তাই মাত্রারিক্ত খাবার খেয়ে লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য থেকে বঞ্চিত না হওয়াই মুমিন বান্দার কাজ। সে জন্য রমজানের শেষ দশকের প্রত্যেক রাত্রি স্বল্প আহার করা। যাতে রাত জেগে ইবাদাত-বন্দেগি করা যায়।

রুসুম রেওয়াজ ত্যাগ করা
ইসলামে রসুম রেওয়াজের স্থান নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য নির্ভর জীবন ব্যবস্থা কুরআন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন- হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এ রাত। সুতরাং কল্পনা নির্ভর না হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পথে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা। লাইলাতুল কদর তালাশে কল্পনা না করা। কোনো প্রকার রসুম রেওয়াজে গা ভাসিয়ে না দেয়া।

এ রাতে কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিকভাবে নামাজ, জিকির আজকার, দান-খয়রাত, কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়ন করা।

অনেকেই সাওয়াবের কাজ মনে করে মাজারে মাজারে মোমবাতি-আগরবাতি বিতরণ, ঢোল-বাদ্যবাজনাসহ অনৈসলামিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন সুন্নাহ বিবর্জিত পথ ও মত থেকে হিফাজত করুন। আজকের রাতসহ বিজোড় রাতে ইবাদাত-বন্দেগিতে কাটিয়ে লাইলাতুল কদর পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪

Post a Comment