২ মাস পর স্কুলে ফিরলেন শিক্ষক শ্যামল কান্তি


ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগে স্থানীয় জনতা ও সংসদ সদস্য কর্তৃক লাঞ্ছিত হওয়ার দুই মাস পর কর্মস্থলে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্ত।  

রোববার সকাল ৯টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। 

সেসময় শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর স্কুলে ফিরতে পারছি এ জন্য আনন্দ লাগছে।’ তবে স্কুলের পরিবেশ নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকেন। পরে পুলিশের একটি টিম কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে স্কুলে নিয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সরাফত জানান, তিনি সারারাত পাহারা দেয়ার পর সকালে এএসআই মাহবুবুরের নেতৃত্বে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বন্দর থানা পুলিশের কাছে শিক্ষকে তুলে দেওয়া হয়। পরে বন্দর থানা পুলিশ শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্কুলে পৌঁছে দেন।

পুলিশ জানায়, স্কুল ছুটি না হওয়া পর্যন্ত তারা ওই স্কুলে শিক্ষকের নিরাপত্তার জন্য অবস্থান করবেন এবং তাকে পুনরায় বাসায় পৌঁছে দিবেন।

স্কুলে সে সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী হাবিব, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তকে মারধর করে স্থানীয়রা। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান সবার সামনে ওই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করান। পরে শ্যামল কান্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি।  গত ১৮ মে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। 

এদিকে ১৯ মে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাময়িক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানান। সেই সঙ্গে শ্যামল কান্তি ভক্তকে মারধর ও কান ধরে উঠবস করানো এবং বরখাস্তের ঘটনায় ওই স্কুলের পরিচালনা বাতিল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সূত্রঃ প্রিয়

Post a Comment