‘জঙ্গিদের ভিডিও পোস্ট, লাইক, শেয়ার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে


ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যমে আইএস, উগ্রপন্থী কিংবা জঙ্গিবাদ সমর্থনে কোনো ধরনের ভিডিও, ছবি, কোনো বার্তা আপলোড, শেয়ার, কমেন্ট অথবা লাইক দেওয়া তথ্য প্রযুক্তি আইনে (আইসিটি) দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

বুধবার বিকেলে পুলিশের সদরদফতার থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো জঙ্গি তৎপরতার সমর্থনে যেকোনো ধরনের কনটেন্ট আপলোড, শেয়ার করা এমনকি তাতে লাইক দেওয়া এবং তার সমর্থনে কমেন্ট করাও আইসিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী অপরাধ। যারা এগুলো করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার সকালে বিতর্কিত ওয়েবসাইট ‘সাইটে’ প্রকাশের পর পুলিশ হেড কোয়াটারের ডিআইজি (মিডিয়া) একেএম শহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শহিদুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'কোনো জঙ্গি সংগঠনের ভিডিও, ছবি বা পোস্ট সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে পোস্ট, শেয়ার বা লাইক দিলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নজরদারি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রকাশিত ছবির মাধ্যমে অনেককেই ‘চিহ্নিত’ করা সম্ভব হয়েছে -এমন প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, ‘ছবি বা এ সম্পর্কিত কিছু শেয়ার করা যাবে, তবে তা যেন কোনোভাবেই জঙ্গিবাদ সমর্থনে না হয়।’

গত ১ জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বরের আর্টিজান বেকারিতে ৮ থেকে ১০ জন সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর ওই রেস্তোরাঁয় থাকা ২০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৩০-৩৫ জন লোকজনকে জিম্মি করে রাখে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়।

গোলাগুলিতে ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হয়েছেন। আহত হন প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন। আহতদের মধ্যে ১৯ জন গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এই ধরনের অতর্কিত হামলা চালিয়ে মানুষজনকে জিম্মি করার ঘটনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম।

শনিবার ভোরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। চালিয়ে জিম্মি হওয়া ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে এবং ২০ জন বিদেশি নাগরিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক। এ ঘটনায় বাংলাদশে দুই দিনের শোক পালন করে বাংলাদেশ। 

গুলশানের জঙ্গি হামলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা করে বুধবার বাংলাদেশে আরও হামলার হুমকি দিয়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বাংলাদেশি তিন সদস্য। এমন দাবি করে আইএসের দেওয়া একটি ভিডিও আপলোড করে এ তথ্য জানায় সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।

সূত্রঃ প্রিয়

Post a Comment