সদকাতুল ফিতর দিতে হয় কেন?


নবী করিম (সা.) সদকাতুল ফিতর এ জন্য নির্ধারিত করেছেন যাতে ভুলক্রমে অনর্থক কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে রোজা পবিত্র হয় এবং মিসকিনদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা হয়। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘সদকাতুল ফিতর দ্বারা রোজা পালনের সকল দোষ-ত্রুটি দূরীভূত হয়, গরিবের পানাহারের ব্যবস্থা হয়।’ (আবু দাউদ)

উম্মতের ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের ‘সদকাতুল ফিতর’ আদায় করার নির্দেশ দেন। একে সাধারণত রোজার ‘ফিতরা’ বলা হলেও এটা মূলত মাহে রমজানেরই নির্ধারিত সদকা বা দান। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাস শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাথাপিছু যে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সাহায্য গরিব-মিসকিনদের সাদকা করা হয়, একে ‘সদকাতুল ফিতর’ বলে।

নবী করিম (সা.) সদকাতুল ফিতর এ জন্য নির্ধারিত করেছেন যাতে ভুলক্রমে অনর্থক কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে রোজা পবিত্র হয় এবং মিসকিনদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা হয়। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘সদকাতুল ফিতর দ্বারা রোজা পালনের সকল দোষ-ত্রুটি দূরীভূত হয়, গরিবের পানাহারের ব্যবস্থা হয়।’ (আবু দাউদ)

রোজা পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা সত্ত্বেও যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়, তার প্রতিকার ও প্রতিবিধান বা ক্ষতিপূরণের জন্য রমজান মাসের শেষে সদকাতুল ফিতরকে ওয়াজিব করা হয়েছে। ধনীদের পাশাপাশি গরিবেরাও যেন ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে, সে জন্য ইসলামি শরিয়তে ঈদুল ফিতরে ধনীদের ওপর ‘সাদাকাতুল ফিতর’ ওয়াজিব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান কমে আসে এবং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।


সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় কিছু মাসয়ালা
১. কেউ রমজানের রোজা রাখতে না পারলেও নিসাব পরিমাণ মাল থাকলে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। কারণ এটা আলাদা বিধান। এর মূল দর্শনের মাঝে রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি দূরের বিষয়টি থাকলেও তা ওয়াজিব হওয়া রোজা রাখা না রাখার সঙ্গে যুক্ত নয়। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/৫৫৯)

২. একটি ফিতরার পুরোটা একজন গরিবকে দেয়া উত্তম। অবশ্য এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেয়াও জায়েজ আছে। (আল বাহরুর রায়েক : ২/৪৪৬)

৩. যদি পাগল ছেলের নিজস্ব সম্পদ থাকে এবং সে বাবার তত্ত্বাবধানেই থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে বাবাকেই সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। এ জন্য পাগলের সম্পত্তি ব্যয় করা যাবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৯২)

৪. বাবা ছেলের ওপর নির্ভরশীল হলে এবং ছেলের পরিবারে থাকলেও ছেলের ওপর বাবার সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। বরং এ ক্ষেত্রে বাবার মালিকানায় নিসাব পরিমাণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকলে বাবার ওপরই সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয়। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

৫. স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামী সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি জরুরি নয়। তবে তা আদায়ের আগে স্ত্রীকে বলে নেয়া ভালো। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ১/২২৮)

৬. ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদেকের সময় ফিতর আদায় ওয়াজিব হয়। সুতরাং যে সন্তান ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদেকের পর জন্মগ্রহণ করবে তার পক্ষ থেকে বাবাকে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৬)

৭. বালেগ ছেলেমেয়ে সম্পদের মালিক হোক বা না হোক কোনো অবস্থায়ই তাদের পক্ষ থেকে বাবা বা মাকে সদকা ফিতর আদায় করতে হবে না। আর প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে নিজেরা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হলে তাদের ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়। অবশ্য তারা যদি নিসাব পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হয় তাহলে তারা নিজ সম্পদ থেকে তা আদায় করবে। তবে এমন ছেলেমেয়ের পক্ষ থেকে তার অভিভাবক তাদের অনুমতি সাপেক্ষে সদকা ফিতর দিয়ে দেয়, তবে তা আদায় হয়ে যাবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০২-২০৩)

৮. রমজান মাসের ভেতরেও সদকা ফিতর আদায় করা যায়। তবে ঈদের দিন নামাজে যাওয়ার আগে আদায় করে দেয়া উত্তম। কোনো কারণে ঈদের নামাজের আগে দিতে না পারলে ঈদের নামাজের পরও দেয়া যাবে এবং সদকায়ে ফিতরের দায়িত্ব পালিত হবে। (হেদায়া : ১/১৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯২)

৯. নাবালেগ সন্তানদের সম্পদ থাকলে বাবা তাদের সম্পদ থেকেও সদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন। (মারাকিল ফালাহ : ৩৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯২)

১০. নিতান্ত গরিব ভাইবোনদের সদকাতুল ফিতর দেয়া জায়েজ। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯০)

১১. বাবা-মা, স্ত্রী ও বালেগ সন্তানদের পক্ষ থেকে সদকা ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর সদকা ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। (মারাকিল ফালাহ : ৩৯৫)

উল্লেখ্য, এবারের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফয়জুল আল আমীন

সূত্রঃ প্রিয়


Post a Comment