বাঘের খাঁচায় যুবকের মৃত্যু, ক্ষতিপূরণ ৬ লাখ টাকা


তাগড়া একটা বাঘের সামনে পড়ে ছেলেটা তখন একনাগাড়ে কাকুতি মিনতি করে চলেছেন। ভয়ার্ত তাঁর মুখচোখ। কুঁকুড়ে গুটিসুটি, বিপদের আশঙ্কায়। ঝরঝর করে ঘাম ঝরছে। পিছনে পাঁচিল, সামনে সেই মূর্তিমান 'পালোয়ান'। পালানোর পথ নেই। বাঘটা তখনও নির্বিকার। খাঁচায় মানুষ দেখে হয়তো কিংকর্তব্যবিমূঢ়। যার জন্য আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা।

উপর থেকে অনবরত চিত্‍‌কার চলছে। জীবন-মৃত্যুর অসম লড়াই দেখতে পলকহীন ঝুঁকে পড়া ভিড়ের জোড়া জোড়া চোখ। ছেলেটির সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই, থাকার কথাও নয়। জোড় হাত করে, প্রাণভিক্ষা চাইছেন অজস্রবার। ফিরে যেতে গিয়েও ঘুরে এসে বাঘটা শেষমেশ তাকে তুলে নিয়ে যায়, কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে। কোনও আর্তিই তার কানে যায়নি। এটাসেটা পড়েছে টপাটপ। বাঘটিকে লক্ষ করে, তাকে প্রতিহত করতে। ছবি দেখে মনে হয়েছে, তাতেই বরং ভয় পেয়ে বাঘটি তুলে নিয়ে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত 'শিকার'কে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই ভিড়েই কারও মোবাইল থেকে তোলা দিল্লি চিড়িয়াখানার এই ছবিটি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় মৃত যুবক মকসুদকে দায়ী করলেও, দিল্লি হাইকোর্ট তাতে কর্ণপাত করেনি।

প্রধান বিচারপতি জি রোহিনী ও বিচারপতি জয়ন্ত নাথের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার দিল্লি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন মত মকসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬ লাখ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে অবশ্য এক লাখ টাকা আগেই মকসুদের পরিবারের হাতে দিয়েছে দিল্লির ন্যাশনাল জুওলজিক্যাল পার্ক।

২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় বছর বাইশের মকসুদকেই বারবার দায়ী করে এসেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি ছিল, এই দুর্ঘটনায় বিজয় নামে সেই সাদা বাঘটির কোনো দোষ নেই। যুবক নিজেই বাঘের খাঁচায় ঢুকে পড়েছিলেন। যদিও, প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছিলেন, বাঘের এনক্লোজারের পাঁচিল নিচু হওয়ার কারণেই ভিড়ের মধ্যে থেকে ছবি তোলার সময় খাঁচায় পিছলে পড়ে যান ওই যুবক। এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নিরাপত্তায় গলদ থাকার বিষয়টি সামনে আসে।


সূত্র: এই সময়

Post a Comment