রাস্তায় ফেলে পুলিশের অমানবিক নির্যাতন, লাথি-চড় মারলেন ঘুষও নিলেন ! (ভিডিও সহ)


রাজধানীর ধানমন্ডিতে এবার দিনদুপুরে রাস্তায় ইউসুফ ফারাজী নামের এক গাড়ি চালককে বেধড়ক মেরেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের (দক্ষিণ) এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। লাথি-চড় মেরেই ক্ষান্ত হননি তিনি নিরীহ ওই চালকের     কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। পুলিশের নিষ্ঠুরতার ওই ভিডিও চিত্র বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছে।

গতকাল ধানমন্ডির ঘটনায় ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সোমা হাপাংকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ব্যাচে যোগ দেওয়া সার্জেন্ট মেহেদী এখনো শিক্ষানবিস পর্যায়ে রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায়।

এদিকে এক মিনিট ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও চিত্রটিতে দেখা গেছে, গাড়ি চালকের শার্ট ছেঁড়া। দেখে মনে হচ্ছে একদফা তাকে পেটানো হয়েছে। চালক মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছেন। চালকের শার্ট বাম হাতে খামচে ধরে দাঁড়ানো ট্রাফিক সার্জেন্ট। ডান হাতে পকেটের কিছু একটা বের করে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক কনস্টেবলের হাতে দিলেন। তারপর চালকের ওপর শুরু করলেন চড়-থাপ্পড়। এরপর তাকে জোর করে মাটিতে ফেলে বুট দিয়ে সজোরে আঘাত করে চেপে ধরলেন তার মাথা। এমন সময় প্রতিবাদ করতে করতে এগিয়ে এলেন চারপাশের মানুষ। তারা সেই ট্রাফিক সার্জেন্টকে টেনে সরালেন খানিকটা।

গত শনিবার রাতে ফেসবুকে ভিডিওটি আপলোড করার পর দেখা হয়েছে লক্ষাধিকবার। আর শেয়ার হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি। ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ট্রাফিক সার্জেন্টের নিষ্ঠুরতার এই চিত্র। সাধারণ মানুষ পুলিশের এই আচরণকে ধিক্কার জানাচ্ছেন মন্তব্যের ঘরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার বিকালে গাড়ির মালিক আরিফুল ইসলামের ছেলেকে নিয়ে চালক ধানমন্ডির ৭/এ সড়কের কেএফসি রেস্টুরেন্টে নামিয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশে পার্ক করেন। সার্জেন্ট মেহেদী চালক ইউসুফের কাছে কাগজপত্র দেখতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চালককে বেধড়ক মারধর করেন সার্জেন্ট মেহেদী। পরে পথচারীরা এগিয়ে এলে সার্জেন্ট মেহেদী মারধরে ক্ষান্ত দিয়ে চালককে পাশের পুলিশ বক্সে নিয়ে যান। ইউসুফ ফরাজীকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে ঢোকানো হয় লকাপে। খবর পেয়ে গুলশানের বাসিন্দা গাড়ির মালিক আরিফুল ইসলামসহ অন্যরা ছুটে আসেন থানায়। তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি রফাদফা করেন। সার্জেন্ট মেহেদী তার একটি মোবাইল, একটি চশমা ও একটি ঘড়ি ভেঙেছে দাবি করে ক্ষতিপূরণ চান। পরে তাকে গাড়িচালকের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। তা মীমাংসা হয়েছে। আমরা নিজেরাই তা সমাধান করে নিয়েছি।

এ ব্যাপারে গতকাল দুপুরে সার্জেন্ট মেহেদীর কাছে ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমে কাগজপত্র ওই চালক দিতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে কাগজপত্র নিয়ে ট্রাফিক বক্সের দিকে এগিয়ে গেলে সে আমার শোল্ডার ব্যাজ ধরে টান দেন। তিনি ঘুরে চালককে একটি থাপ্পড় দেন।

ট্রাফিকের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, ওই ট্রাফিক সার্জেন্টকে ক্লোজ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন।


Source: সূত্রঃ বিডিপ্রতিদিন

Post a Comment