পবিত্র নগরী মক্কার আদব ও সম্মান



বিশ্ব মুসলিমের সম্মিলন স্থল পবিত্র নগরী মক্কা ও আল্লাহ তাআলার ঘর কা’বা সকল মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে স্পন্দন। যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজ, ওমরা ও পরিদর্শনে এ পবিত্র নগরীতে প্রবেশ করবে তাদের উচিত এ নগরীর পবিত্রতা, আদব ও সম্মান রক্ষা করা। এ পবিত্র নগরী মক্কা ও কাবার আদব এবং সম্মানের ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। যা তুলে ধরা হলো-

>> বাইতুল্লাহর সম্মানের কারণে হরমের সীমানায় শিকার করা তথা শিকারীকে শিকারের ব্যাপারে পথ-প্রদর্শন বা কোনোরূপ সহযোগিতা করাও হারাম। পূর্বকাল থেকেই বাইতুল্লাহর প্রাঙ্গন নিরাপদ ও সম্মানিত। বর্বরতার অন্ধকার যুগেও বাইতুল্লাহর সীমানায় শত্রুকে হাতের নাগালে পেয়েও হত্যা তথা প্রতিশোধ গ্রহণ করতো না। কিয়ামাতকাল পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সম্মানের এ ধারা চলমান থাকবে।

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামাত পর্যন্ত ইহা (পবিত্র নগরী মক্কা ও বাইতুল্লাহ) আল্লাহ প্রদত্ত সম্মানের ভিত্তিতে সম্মানিত। সুতরাং হরম এলাকায় কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না এবং তার শিকার জন্তুকে হাঁকানো হবে না। (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

>> হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারিতে হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন পবিত্র নগরী মক্কায় আসতেন, তখন ‘জী-তুওয়া’ নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। ভোরে গোসল করতেন এবং সেখানে ফজর নামাজ আদায় করতেন। পরে পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং এ মর্মে হাদিস বর্ণনা করতেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপই করতেন। (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

সুতরাং হজ, ওমরা ও যিয়ারাত উপলক্ষে যারা পবিত্র নগরী মক্কা ও বাইতুল্লায় আগমন করবে; তারা সুন্নাত আদায়ে গোসল করে এ নগরীতে প্রবেশ করবে। যদি কেউ এ পবিত্র নগরী ও বাইতুল্লাহর সম্মানে জেদ্দা থেকে গোলস করে রওয়ানা দেয়। তবে তার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে বাইতুল্লাহর আদব ও সম্মান রক্ষায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪

Post a Comment