বান্দরবান বগালেকে যাবেন কীভাবে আর কত খরচ লাগবে !


বগালেক বা বগা হ্রদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির একটি হ্রদ। বগালেকের অবস্থান বান্দরবানের রুমা উপজেলায়। জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। রুমা বাজার থেকে দুইভাবে বগালেক যাওয়া যায়। শুষ্ক মৌসুমে চাঁদের গাড়িতে বগা লেকের নিচ (কমলা বাগান) পর্যন্ত যেতে সময় লাগে দেড় দুই ঘণ্টার মত। এরপর কমলা বাগান থেকে হেঁটে বগালেক পর্যন্ত উঠতে লাগবে ৩০ মিনিট। 

তবে বর্ষাকালে অনেক সময় চাঁদের গাড়ি কমলা বাগান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। সেক্ষেত্রে অনেকটা পথ হেঁটে বগালেক যেতে হবে। বেশ কিছু উচু-নিচু পাহাড়ি পথ হেঁটে যেতে কষ্টকর হলেও চারপাশের মনোমুগ্ধকর সবুজের সমারোহ এবং পাহাড়ের কোনে মেঘের আনাগোনা দেখে সেই কষ্ট ভুলে যাবেন। আর আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হন তবে রুমা থেকে রুমা খাল ধরে হেঁটে বগালেক যেতে পারেন। রুমা খালের প্রতিটি বাক আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে নিঃসন্দেহে। এই পথে হাঁটার কষ্ট কম হলেও সময় লাগে অনেক্ষন, প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। খালের চারপাশে ছড়ানো-ছিটানো পাথুরে পথে পা পিছলে যেতে পারে অনায়াশেই। 

বর্ষায় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ভয়ও কিন্তু থেকে যায় যে কোন সময়। তবে এই ট্রেইল ধরে একবার গেলে তা ভুলবার নয় এবং বারবার যেতে ইচ্ছে হয়। বগালেক যেতে রুমা পৌঁছে প্রথমেই একজন গাইড নিতে হবে। গাইডকে দিন প্রতি দিতে হবে ৬০০ টাকা এবং তার থাকা খাওয়ার খরচও আপনাকেই বহন করতে হবে। গাইড আপনাকে একটা ফর্ম পূরণ করতে দিবে যার একটা কপি আর্মি ক্যাম্পে জমা দিতে হবে এবং আর্মি ক্যাম্পে আপনার নিজের এবং গ্রুপের সকলের নাম ঠিকানা ও স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। এরপর গাড়ি ভাড়া করার পালা। 

রুমা বাজার থেকে রিজার্ভ এবং লোকাল দুই ধরনের চাঁদের গাড়ি পাওয়া যায়। চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ২০০০ টাকা (ছোট গাড়ি) অন্যদিকে বড় চাঁদের গাড়ির ভাড়া ২৫০০ টাকা। লোকাল গাড়ির ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা, সেক্ষেত্রে লোকাল গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হবে কিছু সময়। গাড়ি কিছুদূর যাওয়ার পর পুলিশ ক্যাম্পে আবার রিপোর্ট করতে হবে এবং নাম ঠিকানা ও স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। অনুরূপভাবে বগালেক পৌঁছেও প্রথমেই আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করে নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর করতে হবে।

বগালেক এর কটেজ গুলোতে এক সাথে ১২-১৫ জন থাকা যায়, প্রতি রাত থাকার জন্য ব্যায় হবে জনপ্রতি ১০০ টাকা। সকাল, দুপুর, রাত তিন বেলায় ভাত রান্না হয়। সকালের খিচুড়ির দাম ৮০ টাকা (ভাত, ডিম, আলু ভর্তা ও ডাল)। দুপুর ও রাতের খাবার ১০০ টাকা (ভাত, ডিম, সবজি, আলু ভর্তা, পিয়াজ মরিচের ভর্তা)। দুপুর ও রাতের খাবার ১৫০ টাকা যদি ভাতের সাথে মাংস খেতে চান।

সূত্রঃ বাংলাদেশ২৪-৭

Post a Comment