যেসব ভাইরাস ডেস্কটপ ও ল্যাপটপের আতঙ্ক


ডেস্কটপ কম্পিউটার বা ল্যাপটপের জন্য এককথায় আতঙ্কের নাম হচ্ছে ভাইরাস। কোনো একটি ভাইরাস আপনার প্রিয় ডিভাইসটিকে নিমিষেই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই এসব ভাইরাসের ব্যাপারে সতর্ক থাকাটা অবশ্যই জরুরি। নিচে ডেস্কটপ কম্পিউটার বা ল্যাপটপের জন্য প্রাণনাশী সেসব ভাইরাস নিয়ে আলোচনা করা হলো-

জিউস : ২০০৭ সালে জিউস ম্যালওয়ারের খোঁজ মেলে। কম্পিউটারে এই ভাইরাস ইনস্টল হলে আপনা আপনি ইন্টারনেট থেকে আপডেট নিতে থাকে। সাইবার ক্রাইমের দুনিয়ায় এই ভাইরাস ভয়ঙ্কর। ব্যাংক বা বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করার ক্ষমতা রয়েছে এই ভাইরাসের। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭০ হাজার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আক্রান্ত হয়েছে। এমনকি জিউসের নজরে নাসাও বাদ যায়নি।

জিউস গেমওভার : জিউস পরিবারের এক সদস্য জিউস গেমওভার। এই ম্যালওয়ারও বাণিজ্যিক সফটওয়্যরগুলোতে প্রভাবিত করে। ক্রেডিট কার্ড নম্বর, পাসওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতে উস্তাদ জিউস গেমওভার। বিশ্বের এক লাখ কম্পিউটার আক্রান্ত জিউস গেমসওভার ভাইরাসে।

কনফিকার : ২০০৮ সালে প্রথম লক্ষ্য করা যায় কনফিকার ভাইরাসকে। সাধারণত উইনডোজ অপারেটিং সিস্টেমকে ক্ষতি করে। এমনকি কম্পিউটারে অ্যান্টি ভাইরাস থাকলেও তাকে ডিজেবল করে খুব সহজেই বাসা বাঁধতে পারে।

ক্রাইপ্টোলকার : পরিচিত ম্যালওয়ার ক্রাইপ্টোলকার। কম্পিউটারে এই ভাইরাস ঢুকলে সিস্টেম লক করে দেয়। যতক্ষণ না ক্রাইপ্টোলকারের অরজিনাল সিরিয়াল কি দেওয়া হচ্ছে সিস্টেম খোলা যাবে না।

কোয়াকবট : পাসওয়ার্ড চুরি করার জুরি নেই কোয়াকবটের। ২০১১ সালে খোঁজ মেলে এই ভাইরাসের। নেটব্যাংকিং, কম্পিউটার লগইনের মতো মূল্যবান পাসওয়ার্ড চুরি করার ক্ষমতা রাখে কোয়াকবট।

সাইকিপট : সাইকিপট এক প্রকার ট্রোজান হর্স ভাইরাস। ২০০৭ সালে এই ভাইরাস ধরা পড়ে। তথ্য চুরি করার দুরন্ত ক্ষমতা রয়েছে সাইকিপটের।

স্যান্ডওয়ার্ম : সম্প্রতি স্যান্ডওয়ার্মের খোঁজ পাওয়া গেলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ২০০৯ সাল থেকেই এর অস্তিত্ব রয়েছে। সাধারণত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও অ্যাডব সফটওয়্যারে ক্ষতি করে থাকে।

ব্ল্যাকপস : উইনডোজ অপারেটিং পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সিস্টেমে যদি ক্রেডিট ও ডেভিট কার্ড ব্যবহার করা হয়, তথ্য সহজেই চুরি করতে পারে ব্ল্যাকপস।

কলার : অ্যান্ড্রয়েড ট্রোজান ভাইরাস এটি। ২০১৪ সালে শনাক্ত করা যায়। মোবাইলে ব্রাউজিং করার সময় অনায়াসে ঢুকে যেতে পারে কোলার ভাইরাস। পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট থেকে আসার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

আইলাভইউ : নাম আইলাভইউ হলেও কাজে কিন্তু ভয়ঙ্কর। এই ভাইরাস আক্রান্ত হলে পুরোপুরি কম্পিউটার বিকল করে দেয়। দেখা গেছে সারা বিশ্বে আইলাভইউ ভাইরাসে কম্পিউটার আক্রান্ত হয়ে প্রায় হাজার কোটি ডলার গচ্চা দিতে হয়েছে।

কোড রেড : ২০০১ সালে শনাক্ত হয় কোড রেড ভাইরাস। ইআই ডিজিটাল সিকিউরিটির দুই কর্মী এই ভাইরাসের সন্ধান পায়। কম্পিউটারে মেমরি ক্ষতি করে এই ভাইরাস।

মেলিসা : ১৯৯৯ সালে ডেভিড এল স্মিথ মেলিসা ভাইরাস তৈরি করেন। ডকুমেন্টের ক্ষতি করে এটি।

স্টাক্সনেট : সাইবার যুদ্ধে অন্যতম অস্ত্র স্টাক্সনেট ভাইরাস। মনে করা হয়, আমেরিকা ও ইসরায়েল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে এই ভাইরাস তৈরি করা হয়েছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য। যদিও সরকারিভাবে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মাইডুম : আইলাভইউ ভাইরাস আসার আগে মাইডুম ছিল জনপ্রিয় ইমেল ভাইরাস। উইনডোজ কম্পিউটারেরই সাধারণত ক্ষতি করে।

ফ্ল্যাশব্যাক : ফ্ল্যাশব্যাক একটি ট্রোজান ভাইরাস সাধারণত ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষতি করে। ২০১৪ সালে ২২ হাজার ম্যাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্ল্যাশব্যাক আক্রমণে। তাই এসব ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন

Post a Comment