সিটিসেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে



সরকারের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় বন্ধ হতে চলেছে দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল। যেকোনো সময় সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ। 

বিটিআরসি গতকাল রবিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিটিসেলের গ্রাহকদের জানায়, আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে বিকল্প সেবা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের রাজস্ব, টেলিযোগাযোগ সেক্টরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় সিটিসেল গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্ট সবার এই অসুবিধার জন্য বিটিআরসি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশও করেছে। 

বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র মো. সরওয়ার আলম এ বিষয়ে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, যেহেতু সিটিসেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেহেতু সিটিসেলের গ্রাহকদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তিতে সিটিসেল গ্রাহকদের জানানো হয়েছে, ২০১২ সালের ৭ আগস্ট সিটিসেলের সেলুলার মোবাইল ফোন লাইসেন্সসহ ৮.৮২ মেগাহার্জ তরঙ্গ নবায়ন করা হয়। ওই লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী সিটিসেল তরঙ্গ নবায়ন ফিয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির অর্থ নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও পরিশোধ করেনি। 

সর্বশেষ এ মোবাইল অপারেটরের কাছে টুজি মোবাইল অপারেটর লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট তরঙ্গ ফিয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তি বাবদ ২২৯ কোটি টাকা, বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ ১০ কোটি টাকা, বার্ষিক তরঙ্গ ফি (২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল) বাবদ প্রায় ২৭ কোটি ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৩ টাকা, রেভিনিউ শেয়ারিং (২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল) বাবদ আনুমানিক ২৭ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার ৭২০ টাকা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (২০১১ থেকে ২০১৬ সাল) বাবদ প্রায় আট কোটি ৯২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ টাকা এবং প্রযোজ্য ভ্যাট বাবদ প্রায় ৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও বিলম্ব ফি বাবদ প্রায় ১৩৫ কোটি সাত লাখ টাকা অর্থাত্ সর্বমোট প্রায় ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা সরকারের রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। লাইসেন্স নবায়নের পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কমিশন থেকে সিটিসেলকে সরকারের বকেয়া রাজস্ব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং সিটিসেলের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর পরও সিটিসেল বিভিন্ন সময়ে বকেয়া অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও ওই বকেয়া পরিশোধ করেনি। 

সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ না করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া লাইসেন্সের শর্তাবলির পরিপন্থী এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ অবস্থায় বিটিআরসি সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিল করার এখতিয়ার রাখে। কাজেই বিটিআরসি যেকোনো সময় সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল এবং অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল অপারেটর হিসেবে সিটিসেলের যাত্রা শুরু ১৯৮৯ সালে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের ৪৪.৫৪ শতাংশ মালিকানা সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসিফিক ইনভেস্টমেন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেডের ১৭.৫১ শতাংশ ও প্যাসিফিক মোটরস লিমিটেডের ৩৭.৯৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে সিটিসেলের অবস্থান জানতে গত রাতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। 

-kalerkantha

Post a Comment