জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনির সাথে কখনো কি মিথ্যা বলা ঠিক?


এ ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত যে, নারী-পুরুষের মাঝে স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের প্রধান চাবিকাঠি সততা। ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যে পরিচালিত “ওয়ে উই আর নাউ” শিরোনামের একটি জরিপ থেকে জানা গেছে, ৭০ শতাংশ মানুষই নারী-পুরষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর সবকিছুর ওপরে সততাকে স্থান দিয়েছেন। ওই জরিপে যুক্তরাজ্যের ৬ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


এতে দেখা গেছে নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যোগাযোগ দক্ষতা, প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা এবং এমনকি যৌন আকর্ষণের চেয়েও সততাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন লোকে। সততাকেই তারা রোমান্টিক সম্পর্কে সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি মনে করেন।



তবে এমন কোনো ক্ষেত্র কি আছে যখন মিথ্যা বলাটাও সম্পর্কের জন্য উপকারী হতে পারে?
“দ্য এসার্টিভনেস গাইড ফর ওমেন” বইয়ের লেখক, ওয়াসাচ ফ্যামিলি থেরাপির পরিচালক এবং নারী-পুরুষ সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা জুলি ডে আজেভেডো হ্যাঙ্কস বলেন, “একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি কখনোই বলবো না যে, জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনির সাথে মিথ্যা কথা বলা ঠিক কাজ হবে। তবে আমি বিশ্বাস করি এমন অনেক পরিস্থিতি আসে যখন মিথ্যা কথা বলা যায় বা বিস্তারিত বিবরণ এড়িয়ে যাওয়াটাই ভালো।”



হ্যাঙ্কস বলেন, নারী-পুরুষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছয়টি সাধারণ পরিস্থিতিতে লোকে মিথ্যা কথা বলার প্রবণতা প্রদর্শন করেন। অথচ প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুরোপুরি সৎ হওয়াটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।



১. বেতনের ব্যাপারে মিথ্যা বলা
হ্যাঙ্কস বলেন, এ ক্ষেত্রেও মিথ্যা কথা বলা ঠিক হবে কি হবে না তা নির্ভর করছে বিশেষ পরিস্থিতির ওপর। একটি নতুন পোশাক কিনতে গিয়ে আপনি বাজেটের বেশি খরচ করে ফেলেছেন তা লুকানো যেতেই পারে। কিন্তু গত এক বছরে আপনি ক্রেডিট কার্ডের ওপর ৫০ হাজার ডলার ঋণ জড়ো করে ফেলেছেন তা নিয়ে মিথ্যা বলাটা একদমই ঠিক হবে না।
কারণ এতে যদি আপনাদের সম্পর্ক এবং আপনার জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনির ওপর খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাহলে সত্য কথা বলে দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো।
“আর আপনারা যদি দুজনেই অর্থ উপার্জন করে আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টে টাকা রাখেন এবং সব খরচের বিল দুজনে ভাগাভাগি করে বহন করেন তাহলে অতিরিক্ত এক জোড়া জুতো কেনার মতো বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত খরচের ব্যাপার।”
“কিন্তু আপনারা যদি যৌথ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখেন, তখন আপনাদের কোনো একজনের যদি বেতন বাড়ে এবং সেটা আপনারা পরস্পরের কাছে গোপন রাখেন যাতে আগে যে পরিমাণ টাকা জমা করতেন সে পরিমাণ টাকাই জমা রাখা যায় তা খুবই খারাপ কাজ হবে।”



২. আপনি কোথায় ছিলেন সে ব্যাপারে মিথ্যা বলা
“আপনি যদি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে বলেন যে আপনি কাজে যাচ্ছেন অথচ আপনাকে কর্মস্থল থেকে দুই মাসের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের মিথ্যা কথা বললে তা মারাত্মকভাবে আপনাদের মধ্যকার বিশ্বাসে চিড় ধরাবে।”
কিন্তু রাতে বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তা নিয়ে ছোটো খাটো মিথ্যা কথা বলা যেতে পারে। এতে বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে এমন ভাবার তেমন বড় কোনো কারণ নেই।
তবে আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে যদি এর বিস্তারিত কারণ না বললে তিনি নিজেকে প্রতারিত বা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার মনে করেন তাহলে মিথ্যা না বলাই উত্তম।



৩. অতীতের সম্পর্ক
আপনার জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনি যদি আপনাকে অতীতে আপনার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করে তাহলে বিস্তারিত কিছু না বলাই ভালো। এক্ষেত্রে মিথ্যা বললে তা বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বিবেচিত হবে না। তবে কোনো উত্তর দেওয়ার আগে নিজেকে এই প্রশ্ন করুন: এই তথ্য দেওয়াটা আপনার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ? এতে কি আপনাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে, নাকি দূরত্ব তৈরি হবে?



৪. অন্য কারো প্রতি আপনার আকর্ষণ
অন্য কারো প্রতি আপনার আকর্ষণের বিষয়ে যদি জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনির সঙ্গে আপনি সততা প্রদর্শণ করতে চান তাহলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: এই তথ্য তার সঙ্গে শেয়ার করে আপনি কী অর্জন করবেন বা কী হারানোর আশঙ্কা রয়েছে?



ধরুন আপনি আপনার কোনো সহকর্মীকে খুবই আকর্ষণীয় মনে করেন। এখন তা কি আপনার জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে বলবেন? নাহ! তবে যদি এমন হয় যে আপনি কোনো সহকর্মীর প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছেন কিন্তু আপনি আপনার বর্তমান জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে ছাড়তে চান না তাহলে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করাই ভালো।



৫. বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে 

মিথ্যা বলাটাও ভুল হবে। তবে এক্ষেত্রেও আসলে পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


৬. যৌন বিশ্বাসঘাতকতা
হ্যাঙ্কস বলেন, আপনি যদি আপনার স্ত্রী ব্যতীত গোপনে অন্যের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখেন তা হবে মারাত্মক। এমনকি যদি একবারের জন্যও কারো সঙ্গে যৌন মিলন করে তা আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনির কাছে গোপন রাখেন তাও ঠিক হবে না। এতে শুধু বিশ্বাসঘাতকতাই করা হয়নি বরং আপনি আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনির স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। 

সূত্র: ফক্স নিউজ

Post a Comment