বিশ্বের ভয়ংকর ১০ স্থান, যেখানে রয়েছে অসংখ্য মৃতদেহ


বয়স হলে মানুষ কিংবা যে কোনো প্রাণী মারা যাবে এটাই স্বাভাবিক। আর মৃত্যুর পর মৃতদেহ নির্দিষ্ট নিয়মে দৃষ্টির আড়াল করা হয়। কিন্তু এ নিয়মের ব্যতিক্রমও রয়েছে। কিছু স্থান রয়েছে যেখানে মৃতদেহ অনেকটা যেন সাজিয়েই রাখা হয়। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কয়েকটি স্থান। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে লাইভ সায়েন্স।

১. পম্পেই
মাউন্ট ভিসুভিয়াসে অগ্নুৎপাতের সময় পম্পেই নগরী মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। আর এ সময় সেখানকার অধিবাসীরা পালাতে পারে নাই, প্রায় সবাই মারা যায়। আর তাদের দেহের ওপর প্রায় ২০ ফুট উত্তপ্ত লাভার আস্তরণ জমে যায়। তবে বহু বছর লাভার তলদেশে থেকে মৃতদেহগুলো সেখানেই নষ্ট হয়ে যায়। তবে মানুষের দেহের সেই কংকাল ও শূন্যস্থানগুলো রয়েই যায়। পরবর্তীতে গবেষকরা সে ধরনের কিছু শূন্যস্থান থেকে মানুষের দেহের অবয়ব তৈরি করেন। লাভার সেই শূন্যস্থানের ভেতর সিমেন্ট প্রবেশ করিয়ে তৈরি করা হয় তৎকালিন মানুষের অবয়ব।


২. অদ্ভুত কবর
মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সুর নামে রাজ্যটির লা পাজ বে এলাকায় এল কনচ্যালিতো নামে অদ্ভুত এক কবর রয়েছে। এ কবরে ২৩০০ বছর আগের মানুষের দেহাবশেষ রয়েছে। তবে কবরটি এখনকার সাধারণ কবরের মতো নয়। এ কবরে মানুষের দেহ সাজানো রয়েছে সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলস দিয়ে। মোট ৫৭টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে এ কবরস্থানে। তবে তাদের দেহের অধিকাংশই বিচ্ছিন্ন করে কবরস্থ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ মৃতদেহের খুলি অক্ষুন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। যেমন ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী একজন পুরুষের দেহ বিচ্ছিন্ন করে তার মুখের সামনে রাখা হয়েছে মেরুদণ্ড, পাঁজরের অধিকাংশ স্থান ও উরুর হাড়।

৩. কংকাল লেক
ভারতের উত্তরাখণ্ডে ১৯৪২ সালে এক ফরেস্ট রেঞ্জার এ লেক আবিষ্কার করেন, যেখানে রয়েছে অসংখ্য মানুষের দেহাবশেষ। রুপকুণ্ড লেকটি ৫,০২৮ মিটার উঁচু। আর এ স্থানে পৌঁছানো মোটেই সহজ কাজ নয়। কারণ হিমালয় পর্বতের উঁচু এ স্থানে পৌঁছাতে সারাদিন হাঁটতে হয়। অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা ছিল এখানে থাকা মৃতদেহগুলো আধুনিক মানুষের। তবে ২০০৪ সালে এক গবেষণায় জানা যায় এগুলো ৮৫০ সালের মৃতদেহ। কিভাবে তারা এত মানুষ একত্রে মারা গেলেন সে রহস্যেরও সমাধান করেছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন এ মানুষেরা সম্ভবত তীর্থযাত্রী, যারা ভয়ংকর এক শিলাবৃষ্টিতে একত্রে মারা গিয়েছেন।


৪. এভারেস্ট
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। যুগে যুগে বহু মানুষ এ পর্বতের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করেছেন। আর এ কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মূলত ঠাণ্ডা আবহাওয়া, উচ্চতা, বাজে আবহাওয়া ইত্যাদি কারণে মানুষ এ পর্বতের চূড়ায় উঠতে গিয়ে মারা যায়। হিমালয় পর্বতের চূড়া সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মানুষের মৃতদেহ রয়েছে বলে জানা যায় বিবিসির অনুসন্ধানে।


৫. স্মোকড মমি
পাপুয়া নিউ গিনিতে রয়েছে অদ্ভুত মমি। এ মমিগুলো মূলত পাপুয়া নিউ গিনির অ্যাসেকি এলাকায় কোক গ্রামে পাওয়া যায়। সেখানে কেউ মারা গেলে তারা মৃতদেহ সৎকার করে অদ্ভুত প্রক্রিয়ায়। এজন্য তারা ব্যবহার করে ধোঁয়া। কেউ মারা গেলে প্রায় ৩০ দিন তারা আগুনের ধোঁয়ার মাঝে রেখে দেয়। এরপর তা লাল মাটি দিয়ে লেপে দেওয়া হয়। ধোঁয়ায় কিছুদিন রাখার ফলে মৃতদেহ আর্দ্রতামুক্ত হয়ে যায় এবং তার কারণে তা বহুদিন অক্ষত থাকে।


৬. প্যারিসের সমাধি টানেল
প্যারিসে রয়েছে বিশ্বখ্যাত ভুগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্র। এখানে অসংখ্য মানুষের অস্থি সজ্জিত রয়েছে। ১৮৫৯ সালে সালে জনবহুল প্যারিস থেকে
কবরস্থান সরানো শুরু হয়। এ প্রক্রিয়ায় ফরাসী বিপ্লবের সময় গিলোটিনে প্রাণ দেওয়া বহু ব্যক্তির কবরও সরিয়ে ফেলা হয়।

৭. বোন চার্চ
ইটালির রাজধানী রোমে রয়েছে বোন চার্চ, যে চার্চে রয়েছে মানুষের অসংখ্য হাড়। চার্চটিতে পাঁচটি অদ্ভুত কক্ষে রয়েছে প্রায় তিন হাজার সাতশ সন্নাসীর অস্থি। এছাড়া এসব হাড় ব্যবহার করে যিশুখ্রিস্ট হাত তুলে রয়েছেন, এমন অবয়বও তৈরি করা হয়েছে। এখানে যেসব মৃতদেহের হাড় রয়েছে তারা ১৬০০ থেকে ১৮০০ সালের মাঝে মারা গিয়েছেন।


৮. বার্থোলোমেউস চার্চ
পোল্যান্ডের একটি চার্চের নাম সেন্ট বার্থোলোমেউস চার্চ। এ চার্চেই রয়েছে অসংখ্য মৃতদেহ। এখানে ১৮ শতকের বিখ্যাত স্কাল চ্যাপেলটি অবস্থিত। ১৮ শতকের এ ভবনটিতে রয়েছে কমপক্ষে ২৪ হাজার মানুষের অস্থি, যারা মারা গিয়েছেন বিভিন্ন যুদ্ধ ও প্লেগে। এখানে মৃতদেহ সংগ্রহ শুরু হয় ১৬০০ সালে। অ্যোটলাস অবসকিউরার তথ্যমতে এখানে প্রায় তিন হাজার খুলি ব্যবহার করে চার্চের বিভিন্ন স্থান সজ্জিত করা হয়েছে। এছাড়া চার্চের মেঝের নিচে রয়েছে অবশিষ্ট মৃতদেহগুলো।


৯. ঝুলন্ত কবর
দক্ষিণ চীনের বেশ কয়েকটি স্থানে গেলে অনেকেই অবাক হবেন। কারণ সেখানে মৃতদেহগুলো পাহাড়ের গায়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যা সাধারণত বো জনগোষ্ঠীর লোকেরা করেন। এ ধরনের কবর দেওয়া শুরু হয় প্রায় ৪০০ বছর আগে। তবে শুধু সে সময়ই নয়, তার বহু আগেও চীনে এভাবে কবর দেওয়ার চল ছিল বলে জানা যায়। কারণ ২০১৫ সালে গবেষকরা জানান তারা চীনের হুবেই প্রদেশে খুঁজে পেয়েছেন ১৩১টি এ ধরনের ঝুলানো কফিন, যেগুলো ১২০০ বছর আগের।

১০. প্রাচীন যুদ্ধক্ষেত্র
জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টলেনসে নদীর ধারে রয়েছে প্রাচীন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানে অনুসন্ধান করে পাওয়া গেছে প্রায় একশ যোদ্ধার মৃতদেহ। তাদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ। অনেকেরই দেহে তীরবীদ্ধ হাড় পাওয়া গেছে। এছাড়া বহু মৃতদেহেই রয়েছে বিভিন্ন কাঠের অস্ত্রের আঘাত। জানা যায়, এখানে খ্রিস্টপূর্বাব্দ ১২৩০ অব্দে যুদ্ধ হয়েছিল। আর এ যুদ্ধে মুখোমুখি সংঘাত হওয়ায় মৃতদেহগুলোতেও সে চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

-kalerkantho

Post a Comment