মহিলাদের হজ আদায়ে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি



আল্লাহ তাআলা হজকে মানুষের জন্য শর্ত সাপেক্ষে ফরজ করেছেন। শর্ত হলো- শারীরিক সক্ষমতা এবং আর্থিক সঙ্গতি উভয়টি থাকা লাগবে। যার শারীরিক সক্ষমতা নেই কিন্তু আর্থিক সঙ্গতি আছে সে ব্যক্তির জন্য অন্য কাউকে দিয়ে হজ করানো ওয়াজিব। ঠিক মহিলাদের হজ আদায়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে একটি অতিরিক্ত শর্ত। আর তা হলো- মহিলারা মাহরাম ছাড়া হজ আদায় করতে পারবে না। যদি কেউ করে তবে তার হজ আদায় হবে ঠিকই কিন্তু মাহরাম ছাড়া হজ আদায়ের কারণে গোনাহগার হবে। তাছাড়া মহিলাদের হজ আদায়কালে কিছু করণীয় রয়েছে। যা তুলে ধরা হলো-

বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তাবস্থায় হজ
স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত অথবা তালাকের ইদ্দত পালনকারিণী মহিলার জন্য হজে যাওয়ার অনুমতি নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যাবে, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ২৩৪) ইদ্দত শেষ হলে পরের বছর (সামর্থ্য থাকলে) হজ করতে পারবে। তবে হজের টাকা জমা দেয়ার পরে যদি স্বামী মারা যায় তবে সম্পদ রক্ষার্থে ও সম্পদের অপচয় রোধে একদল ইসলামিক স্কলারের মতে, ইদ্দত অবস্থায়ও হজ করার অবকাশ রয়েছে। (দুররুল মুখতার)

ঋতুকালীন অবস্থায় হজ
মাসিক ঋতুবর্তী ও প্রসূতি নারীর জন্য গোসল করে হজের ইহরাম বাঁধা জায়েজ। হানাফি ও শাফেয়ি মাজহাবসহ অধিকাংশ আলেমের মতে, রক্তস্রাব ও প্রসূতি মহিলাদের ইহরাম বাঁধার আগে গোসল করা মুস্তাহাব। গোসল করা সম্ভব না হলে বা অসুবিধা বোধ করলে অজু করবে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে-হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আসমা বিনতে উমায়স রাদিয়াল্লাহু আনহা জুলহুলায়ফা নামক স্থানে আবু বকরের পুত্র মুহাম্মাদকে প্রসব করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকরের মাধ্যমে তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম) ঋতুবর্তী ও প্রসূতিকালীন সময়ে মহিলার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতিত হজের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।

মহিলাদের ঋতুস্রাব ও প্রসূতিকালীন সময় শেষ হলে পবিত্র হয়ে বাইতুল্লায় তওয়াফ আদায় করে নিবে। তবে হজ পালনের জন্য মহিলারা ওষুধের মাধ্যমে মাসিক ঋতুস্রাব বন্ধ রেখেও হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে এমনটি করা নিষ্প্রয়োজন।

মহিলাদের ইহরামের পোশাক
মহিলাদের জন্য ইহরামের পর নির্দিষ্ট রঙ বা ডিজাইনের পোশাক নেই। ভালোভাবে সতর ঢাকা যায় এমন পোশাকই মহিলারা ইহরাম অবস্থায় পরিধান করবে।

ইহরামে যে পোশাক নিষিদ্ধ
আঁট-সাঁট, ফিটিংস, খুব রংচটে (যা অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে) কিংবা পুরুষদের মতো পোশাক সর্বাবস্থায় মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ।

ইহরাম অবস্থায় পর্দা
তবে ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য নিকাব দিয়ে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো মুহরিম মহিলা মুখ ঢাকবে না। (বুখারি)

ইহরাম অবস্থায় মহিলারা গাইরে মাহরাম থেকে নিজেদের চেহারা সংরক্ষণ করতে পারবে। হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা ইহরাম বেঁধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সফর করতাম। এ সময় আমাদের চেহারা  খোলা থাকত। আমাদের পাশ দিয়ে কোনো (গাইরে মাহরাম) পুরুষ অতিক্রম করলে মাথা থেকে চাদরের আঁচল টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার খুলে ফেলতাম। (বুখারি)

মহিলাদের ইজতিবা ও রমল
সর্বসম্মতিক্রমে ওলামায়ে কেরামগণ একমত যে, মহিলারা ইহরামের সময় পুরুষের মতো ‘ইজতিবা’ (ইজতিবা হলো- ইহরামের চাদরের মধ্যাংশ ডান বগলের নিচে এবং দুই মাথা বাম কাঁধের ওপর দিয়ে সামনে ও পিছনে ফেলে রাখা) এবং বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাঈর সময় ‘রমল’ (রমল হলো- বীরদর্পে শরীর নাড়িয়ে বড় কদমে দ্রুত বেগে চলা) করবে না।

সুতরাং মহিলাদের হজ ও ওমরা পালনে উপরোল্লিখিত বিষয়সমূহের প্রতি যথাযথ দৃষ্টি রাখা উচিত। আল্লাহ তাআলা সকল হজের ইচ্ছাপোষণকারিনী মহিলাদেরকে হজ পালনে করণীয় সকল বিষয়ের প্রতি যথাযথভাবে যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


-জাগোনিউজ২৪

Post a Comment