এই ১৫ তারকার রয়েছে বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য, যা অনেকেরই জানা নেই


অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং সঙ্গীতজ্ঞরা প্রায়ই বিনোদন জগতের বাইরেও পদচারণা করেন। এবং নিজেদের নামের খ্যাতি ও যশ ব্যবহার করে খুচরা ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, পানশালা এবং বিনিয়োগ শিল্পে অর্থ খাটান।

অনেক সময় এই সাইড ব্যবসাগুলোই তাদেরকে প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জনের সুযোগ করে দেয়। অথচ এই ব্যবসার জন্য তাদের কোনো খ্যাতি অর্জিত হয় না।

১. অ্যাশটন কুচার- এ গ্রেডের বিনিয়োগ
অ্যাশটন কুচার বিনোদন ম্যানেজার গায় ওসিয়েরির সঙ্গে মিলে ২০১০ সালে ভেঞ্চার-ক্যাপিটাল ফার্ম নামের একটি বিনিয়োগ ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। উবার, এয়ার বিএনবি, স্পটিফাই, শাজাম এবং সাউন্ডক্লাউডের মতো প্রযুক্তি কম্পানিতে প্রচুর বিনিয়োগ করে তার ফার্মটি।

২০১১ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রযুক্তিখাতে কুচারের বিনিয়োগের রেঞ্জ ৫০ হাজার ডলার থেকে ২ লাখ ডলার পর্যন্ত। ২০১৪ সাল নাগাদ বিভিন্ন খাতে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার।

২. ম্যাজিক জনসন- ম্যাজিক জনসন এন্টারপ্রাইজ
দ্য এনবিএ লিজেন্ড খ্যাত এই তারকা ১৯৮৭ সালে তার বিনিয়োগ কম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। পেপসি কোলা এবং সনি রিটেইল এন্টারটেইনমেন্ট এর মতো নামকরা কম্পানিতে তার বিনেয়াগ রয়েছে। ম্যাজিক জনসন এন্টারপ্রাইজ এর পুঁজির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলার। ২০১২ সালে তিনি এলএ ডজারস এর সহ-মালিক হন। এলএ ডজারস এর মূল্য ২ বিলিয়ন ডলার।

৩. জেসিকা অ্যালবা- দ্য অনেস্ট কম্পানি
"ডার্ক অ্যাঞ্জেল" এবং "ফ্যান্টাস্টিক ফোর" খ্যাত এই নায়িকা ২০১১ সালে সহমালিক হিসেবে দ্য অনেস্ট কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। কম্পানিটি অবিষাক্ত গৃহস্থালি পণ্য সরবরাহ করে। কম্পানিটি পন্য সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে বিনামূল্যের গ্যারান্টির নিশ্চয়তা দেয় এবং কাস্টমারদেরকে পণ্যের উৎপত্তি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে। ২০১৫ সালে কম্পানিটির মূল্য নিরুপণ করা হয় ১.৭ বিলিয়ন ডলার।

৪. বোনো- এলিভেশন পার্টনারস
বোনোকে তার সানগ্লাস, ইউটু ফেম এবং অ্যাক্টিভিজমের জন্য প্রায় সকলেই চেনেন। কিন্তু তিনি যে, এলিভেশন পার্টনারস নামের একটি বিনিয়োগ কম্পানির প্রতিষ্ঠাতা তা খুব কম লোকেই জানেন। প্রাইভেট ইকুয়িটি ফার্ম এলিভেশন পার্টনারস নতুন গণমাধ্যম এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করে। কম্পানিটির বিনিয়োগের পরিমাণ ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার। শুধু ফেসবুকেই কম্পানিটির বিনিয়োগের পরিমাণ ১.৪ বিলিয়র ডলার।

৫. জর্জ ক্লুনি- ক্যাসামিগোস টাকিলা
জর্জ ক্লুনি এবং সিন্ডি ক্রফোর্ড এর স্বামী র্যান্ডে গার্বার ২০১৩ সালে এই পানীয় কম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। টাকিলার ব্যবসা এতোটাই সফল হয়েছিল যে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় কম্পানিটি স্বর্নপদক জয় করে।

৬. গিউয়েন স্টেফানি- এল এ এম বি
২০০৩ সালে এল এ এম বি নামের কম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন গিউয়েন স্টেফানি। কম্পানিটি জুতা, হাতব্যাগ এবং সানগ্লাসের ব্যবসা করে। রিজ উইদারস্পুন, ক্যামেরুন ডিয়াজ এবং ক্যারি আন্ডারউডসহ আরো অনেক তারকা এই কম্পানির পণ্য ব্যবহার করেন।

৭. ন্যাস- কুইনসব্রিজ ভেঞ্চার পার্টনারস, এইচএসটিআরআই
ন্যাসের ভেঞ্চার-ক্যাপিটাল ফার্ম ড্রপবক্স এবং এলওয়াইএফটি টিল্ট, ক্যাসপার এর মতো প্রধান কিছু সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ সহায়তা দেয়। ন্যাসের এইচএসটিআরওয়াই নামের নিজস্ব একটি পোশাক কম্পানিও রয়েছে।

৮. সেরেনা উইলিয়ামস- এইচএসএন কালেকশন
নিউ ইয়র্কের ফ্যাশন উইকে আত্মপ্রকাশকারী এইচএসএন ভোগ সম্পাদক আনা উইন্টোর এর মেন্টরশীপ অর্জন করেছে।

৯. রবার্ট ডি নিরো- নোবু রেস্টুরেন্ট
দ্য "গুডফেলাস" এবং "ট্যাক্সি ড্রাইভার" খ্যাত এই তারকা আরো তিন অংশীদারসহ ২০০৫ সালে নোবু ফিফটি সেভেন নামের একটি রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে রেস্টুরেন্টটির শাখা রয়েছে। এর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন ডলার।

১০. উইল ফেরেল- "ফানি অর ডাই"
কমেডিয়ান উইল ফেরেল ফানি অর ডাই নামের একটি কমেডি ভিডিও ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা। ব্যবসায় উন্নতি না হওয়ায় সাইটটি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এই তারকা। এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

১১. স্যামি হ্যাগার- ক্যাবো ওয়েবো
ক্যাবো সান লুকাস, হলিউড, লেক তাহো এবং লাস ভেগাসে স্যামি হ্যাগারের চেইন রেস্টুরেন্ট এবং নাইট ক্লাব ছিল। কিন্তু ব্যবসায় সফল না হওয়ায় ১৯৯৪ সালে নতুন অংশীদারের সঙ্গে ব্যবসাটি পুনরায় নুতন করে শুরু করেন। ক্যাবো ওয়েবো হ্যাগারের মালিকানায় থাকা একটি টাকিলা কম্পানিরও নাম। ২০০৭ সালে তিনি সেটি ৮০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন।

১২. মার্ক অ্যান্ড ডোনি ওয়াহলবার্গ- ওয়াহলবার্গার্স
দ্য ওয়াহলবার্গ ব্রাদার্স ২০১১ সালে এই চেইন রেস্টুরেন্টটি চালু করেন। ম্যাসাচুসেটস এর হিঙহামে এর প্রথম শাখাটি স্থাপিত হয়। বর্তমানে লাস ভেগাস, ফিলাডেলফিয়া এবং কনি দ্বীপসহ যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি শাখা রয়েছে এর। অবশ্য আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে বিশ্বের ১১৮টি স্থানে রেস্টুরেন্টটির শাখা স্থাপন করা হবে। বর্তমানে রেস্টুরেন্টটি বছরে ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে।

১৩. কেট হাডসন- ফ্যাবলেটিকস
"অলমোস্ট ফেমাস" ও "হাউ টু লস এ গায় ইন টেন ডেজ" খ্যাত এই তারকা জাস্ট ফ্যাব নামের ফ্যাবলেটিকস অ্যাথলেটিক-ওয়্যার লাইন থেকে ভালোই উপার্জন করেছেন।

প্রথম বছরে তার আয় ছিল ৫০ মিলিয়ন ডলার। যা দ্বিতীয় বছরে তিনগুণ বেড়ে ১৫০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ফোবর্সের মতে, ফ্যাবলেটিক্স আগামী ৩ থেকে ৫ বছরে ৭৫ থেকে ১০০ ব্রিক-অ্যান্ড-মর্টার্স স্টোর খুলবে।

১৪. গ্লোরিয়া অ্যান্ড এমিলিও এস্টেফান- রেস্টুরেন্টস, হোটেলস, ইউনিভিশন, এবং মিয়ামি ডলফিনস
সঙ্গীত কিংবদন্তী গ্লোরিয়া এবং এমিলিও এস্টেফান। কিন্তু এরা তাদের জীবিকার জন্য সঙ্গীত ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল নন। ফ্লোরিডায় তাদের বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট ও হোটেল ব্যবসা আছে।

মিয়ামি ডলফিনের মালিকানার একটি অংশও এদের দখলে রয়েছে। ২০০৯ সালে ফোর্বসের হিসাব মতে, মিয়ামি ডলফিনের মূল্য ছিল ১.৮ বিলিয়ন ডলার।

গ্লোরিয়া ইউনিভশনের বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স এরও সদস্য। ইউনিভিশন এর মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলার।

১৫. কেভিন কস্টনার- ওশেন থেরাপি সলিউশনস
"দ্য বডিগার্ড" এবং "ফিল্ড অফ ড্রিমস" খ্যাত অভিনেতা এমন এক ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন যা আপনি হয়ত কল্পনাও করেননি। তিনি পানি থেকে তেল আলাদা করার একটি অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়লে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি এই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করেন। তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি দিয়ে পানি থেকে মিনিটে ২০০ লিটার তেল অপসারণ করা যায়। এই প্রযুক্তি বেচে তিনি ১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার/কালেরকণ্ঠ

Post a Comment