বদলি হজের জরুরি মাসায়েল : যেসব কারণে নিজে হজ আদায়ে অক্ষম গণ্য হয়


বদলি হজের জরুরি মাসায়েল : যেসব কারণে নিজে হজ আদায়ে অক্ষম গণ্য হয়
হজ একটি কঠিন ইবাদত। একে জিহাদের সাথেও তুলনা করা হয়েছে। এ কারণে এতে ছওয়াবও বেশি এবং উপকারিতাও অনেক। বিধানগত দিক থেকে হজ আদায় করা সহজ, কিন্তু যেহেতু এর জন্য সফর করতে হয় এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জমায়েত বিশেষ বিশেষ স্থানে একসাথে এই ইবাদত আদায় করে থাকে তাই তা কঠিন ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে অনেক মানুষের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তা আদায়ের সামর্থ্য থাকে না। এ ধরনের মাজুরদের প্রতি মেহেরবানী করে আল্লাহ তাআলা বদলি হজের অবকাশ দান করেছেন।

বদলি হজের নাম শুনলেই অনেকে মনে করতে পারেন তা আদায়ের জন্য বোধ হয় আলাদা কোনো নিয়ম আছে। তা ঠিক নয়। যেভাবে নিজের হজ আদায় করা হয় সেভাবেই বদলি হজও আদায় করা হয়। পার্থক্য শুধু এইটুকু যে, নিয়ত ও তালবিয়ার সময় বদলি হজে প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে হজের নিয়ত করা হয়। এরপর হজের সকল কাজ এক ও অভিন্ন।


হজের নিয়ম এক হলেও বদলি হজ সংক্রান্ত কিছু বিষয় এমন আছে, যা বদলি হজে প্রেরণকারী ও প্রেরিত উভয়েরই জানা থাকা জরুরি।



বদলি হজের জরুরি মাসায়েল
১. মাসআলা : যার উপর হজ ফরয হয়েছে এবং হজ আদায়ের শারীরিক সক্ষমতাও আছে তার নিজে হজ করা জরুরি। এক্ষেত্রে অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করানো জায়েয নয়। বদলি করালে এর দ্বারা তার ফরয হজ আদায় হবে না। [হিদায়া ১/২৯৬; আলবাহরুল আমীক ৪/২২৩৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৪]


২. মাসআলা : যার উপর হজ ফরয হয়েছে এবং হজ আদায়ের সক্ষমতাও ছিল, কিন্তু শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ করেনি। অতপর হজ আদায়ের সক্ষমতা হারিয়ে মাজুর হয়ে পড়েছে এমন ব্যক্তির উপর ফরয নিজের পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো অথবা মৃত্যুর সময় তার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানোর অসিয়ত করে যাওয়া।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, বিদায় হজে খাছআম গোত্রের একজন নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার বাবার উপর হজ ফরয হয়েছে, কিন্তু তিনি এত বৃদ্ধ যে, বাহনের উপর স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারব?’ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ। (তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারবে)।’ [সহিহ বুখারি ১/২০৫; সহিহ মুসলিম ১/৪৩১]

হযরত আলী রা. অতিশয় বৃদ্ধ লোক সম্পর্কে বলেছেন-
يُجَهِّزُ رَجُلاً بَنَفَقَتِهِ فَيَحُجُّ عَنْهُ
সে তার পক্ষ থেকে হজ করাবে এবং এর খরচ বহন করবে।[মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৫৯৯]
দেখুন : আলবাহরুল আমীক ৪/২২৬১; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪৩৪

৩. মাসআলা : কারো উপর হজ ফরয হয়েছে এবং সে হজের উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফে পৌঁছেছে, কিন্তু হজের মূল সময়ের আগেই তার মৃত্যু এসে গেছে-এই ব্যক্তির জন্য মৃত্যুর সময় তার পক্ষ থেকে বদলি হজের অসিয়ত করার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে তার উপর থেকে হজ রহিত হয়ে যায়। কেননা, সে হজ আদায়ের সুযোগ পায়নি।[ফাতহুল কাদীর ২/৩২৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০৪; গুনইয়াতুন নাসিক ৩৩]


যেসব কারণে নিজে হজ আদায়ে অক্ষম গণ্য হয় 
১. ফরয হওয়ার পর আদায়ের সুযোগ পাওয়ার আগেই মৃত্যু এসে গেলে। এ ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি থেকে হজ রহিত হয়ে যায়। সুতরাং তার জন্য মৃত্যুর সময় হজের অসিয়ত করে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।



২. কেউ জোরপূর্বক আটকে রাখলে বা হজের সফরে যেতে না দিলে।



৩. এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে, যা থেকে সুস্থতা লাভের আশা নেই। যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে, অন্ধ বা খোড়া হয়ে গেলে কিংবা বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা এত বেশি হলে যে, নিজে বাহনের উপর আরোহন করতে পারে না।



৪. রাস্তা অনিরাপদ হলে। অর্থাৎ সফর করতে গেলে যদি জান-মালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।



৫. নারী তার হজের সফরে স্বামী বা উপযুক্ত মাহরাম পুরুষ সঙ্গী না পেলে।



এসব কারণে ঐ ব্যক্তিকে মাজুর বা অক্ষম গণ্য করা হবে এবং সে নিজের পক্ষ থেকে বদলি হজ করাতে পারবে। [মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪৩৫; গুনইয়াতুন নাসিক ৩২১]



লেখক : মাওলানা মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ
সম্পাদনা : মাওলানা মিরাজ রহমান


-priyo

Post a Comment