বাসা ভাড়ার টাকায় ফ্ল্যাটের মালিক


মাসে মাসে বাসস্থানের ভাড়া পরিশোধ করেই এক পর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। গার্মেন্টস শ্রমিকদের এভাবে ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার সুযোগ করে দিতে মাত্র দেড় শতাংশ সুদে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে দুটি গার্মেন্টস কোম্পানি এ সুযোগ পেয়েছেন। প্রক্রিয়াধীন আছে আরও ২৪টি।

রবিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ইংরেজি দৈনিক ‘দি ডেলি স্টার’-এর কনফারেন্স রুমে এক সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ‘সাসটেইনেবল লিভিং ফর এ বেটার টুমরো’ শীর্ষক এ সেমিনারটি আয়োজন করে দি ডেলি স্টার ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ফরাসউদ্দিনের সঞ্চলনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন, আহসান এইচ মনসুর, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু, রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে স্থপতি ইকবাল হাবিব জানান, গাজীপুরে ‘সূবর্ণ প্রাঙ্গণ’ নামের এমন প্রকল্প হাতে নিয়েছে মোহাম্মদিয়া গ্রুপ। প্রকল্পের আওতায় আবাসিক ভবনের পাশাপাশি স্কুল, স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থাও থাকবে। এ প্রকল্পে জমির পরিমাণ ৭৫ হাজার ৫২০ স্কয়ার ফিট বা ১.৭ একর। আবাসিক অংশে পরিবার নিয়ে থাকার জন্য ১৯৬টি ইউনিট থাকবে। এ ছাড়া ব্যাচেলরদের জন্য থাকবে ১০৫টি ইউনিট।

এর মধ্যে মেয়েদের জন্য ৭৩টি এবং পুরুষদের জন্য ৩২টি ইউনিট থাকবে। পরিবার নিয়ে থাকাদের জন্য প্রতি ইউনিটে মাসিক ভাড়া হবে ৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং ব্যাচেলরদের জন্য মাসে ভাড়া ২০০ টাকা। এ ভাড়া দিয়ে ১০ বছর থাকলেই একজন শ্রমিক ওই ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে যাবেন।

ইকবাল হাবিব জানান, এ প্রকল্পের জন্য খরচ হবে ৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে জমির মূল্য ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেড় শতাংশ সুদে ১৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রকল্পের বিষয়ে ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘গত ২৬ বছরে গার্মেন্টস খাত অনেক দূর এগিয়েছে। একটা কথা মনে রাখতে হবে শ্রমিকদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লে মালিকদের লাভের পরিমাণই বেশি।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পাইলোট প্রকল্প (ভাড়া দিয়ে থেকে এক পর্যায়ে ফ্ল্যাটের মালিক) সফল হলে আমাদের অর্থনৈতিক পরিবেশ উন্নয়ন মানবশক্তির উন্নয়ন এ দুটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। ফলে এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা উন্নয়নশীল দেশের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাব।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের জন্য দেড় শতাংশ সুদে অর্থায়ন করছি। পরবর্তীতে অন্যান খাতের নিম্ন আয়ের মানুষদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে এ সুবিধা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থায়নের জন্য বিজিএমইএ থেকে ২৬টি প্রতিষ্ঠানের নাম পাঠানো হয়ছে। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করা হয়েছে। বাকি ২৪টি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজপত্র পাঠায়নি। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজ চাওয়া হয়েছে। তারা দিতে দেরি করছে। এ জন্য ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ ছাড় করা হয়নি। তার মানে এই নয়, আর কোনো প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করা হচ্ছে না।’


এর আগে বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু বলেন, ‘আমাদের কাছে ৫৬ প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা ২৬টি আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাই। কিন্তু মাত্র দুটি আবেদন গ্রহণ করে অর্থ ছাড় করা হয়ে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ ছাড় করা হয়নি। এটি খুবই দুঃখজনক বিষয়।’

-শেয়ার বাজার বিডি

Post a Comment