আপনার সিমকার্ড আপনাকে পথে বসাতে পারে। এই খবর পড়লে বুক কাঁপবে


অনলাইন ট্রানজাকশন আশীর্বাদ না অভিশাপ, সে প্রশ্নের উত্তরে গ্রাহককুল দ্বিখণ্ডিত। একপক্ষের মত, অনলাইন ট্রানজাকশনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এমন ঘটনা বিস্তর ঘটে চলেছে। ফলে সঞ্চয় মোটেই সুরক্ষিত নয়। অন্যপক্ষ বলছে, একটু সতর্ক থাকা গেলে অনেক ঝুঁকিই এড়ানো যায়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। ঝুঁকি রয়েছে পুরোমাত্রা। 

যদি ভেবে থাকেন, অনলাইন ট্রানজাকশনে না-গেলেই আপনার টাকা সুরক্ষিত, তাহলে চরম ভুল করবেন। কেননা, আপনার সিমকার্ডে ‘সিঁদ’ কেটে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢোকার ফিকির বের করে ফেলেছে তারা। এর নাম, ‘‘ক্লোন সিম’’। 

সম্প্রতি মুম্বইয়ের বাসিন্দা, ৭২ বছরের বৃদ্ধা ব্যাঙ্ক থেকে একটি এসএমএস পান। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল। অথচ, টাকা তিনি তোলেননি। তদন্তে যা দেখা গেল, তাতে সকলের চোখ কপালে। ‘সিম ক্লোনিং’’-এ মাধ্যমে টাকা ‘চুরি’ করা হয়েছে। বৃদ্ধার সিম ‘ক্লোন’ করা হয়েছে। 

এতে কী করা হয়? 
বিশেষ একটি সফ্‌টওয়্যারের মাধ্যমে আপনার ফোনের সিমটির ক্লোন করা হয়। সেই সফ্‌টওয়্যারে থাকে সিমকার্ড রিডার। এতে একটি সিমকার্ডের তথ্য অন্য কার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। এবারে প্রশ্ন হল, কীভাবে আপনার সিমটির ক্লোন তৈরি হয়? অচেনা নম্বর থেকে ভুয়ো ফোন বা এসএমএস নিশ্চয়ই আসে আপনার কাছে। তাতে আপনি কোথায় কত কোটি টাকা বা আইফোন জিতেছেন, সে সব বলা থাকে। এবারে ভুলেও আপনি সেই এসএমএস-এর জবাব দিলে বা পাল্টা ফোন করলে, আপনার সিমের সব তথ্য উঠে যায় উল্টোদিকের সফ্‌টওয়্যারে। 

এবারে এই ফোন থেকে ফোন যায় আপনার ব্যাঙ্কে। অনলাইনে পাল্টে ফেলা হয় আপনার অ্যাকাউন্টের তথ্য। ভেরিফিকেশনের জন্য কোড চলে যায় চোরের মোবাইলে। আপনি টেরও পাবেন না। অথচ আপনার টাকা অক্লেশে তুলে নিচ্ছে চোর।

বাঁচবেন কীভাবে? 
প্রথমেই নিয়মিত মোবাইলের এসএমএস পরীক্ষা করতে থাকুন। কোনও অচেনা নম্বর থেকে ফোনে কেউ ব্যাঙ্ক বা ফোন সংক্রান্ত তথ্য চাইলে, দেবেন না। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করুন। যদি কোনও সন্দেহ হয়, ব্যাঙ্কে গিয়ে আপনার যোগাযোগ নম্বরটি বদলে অন্য নম্বর দিন। ফোনে অ্যান্টি ভাইরাস সফ্‌টওয়্যার রাখুন, পাসওয়ার্ড করুন যত সম্ভব জটিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোন নম্বর শেয়ার করবেন না। +92, +90 বা +09 দিয়ে শুরু কোনও নম্বর থেকে ফোন বা এসএমএস এলে, তাতে উত্তর দেবেন না। 

-ebela

Post a Comment