যেভাবে বুঝবেন আপনার মোনাজাত কবুল হয়েছে !



মোনাজাত কবুল করা না করা আল্লাহপাকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। আমাদের তা জানার কোনো উপায় নেই। অবশ্য এমন কিছু নিদের্শনা রয়েছে যার মাধ্যমে মোটামুটি আঁচ করা যায় যে, দোয়া কবুল হয়েছে।
যেমন—

(ক) মোনাজাতের পর ইবাদতে মন লাগা, গুনাহের প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি হওয়া।
(খ) পূর্বের অবস্থার মধ্যে পরিবর্তন অনুভূত হওয়া।
(গ) আখেরাতের প্রতি মন ধাবিত হওয়া। দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি সৃষ্টি হওয়া। যদি এমন অবস্থা অনুভূত হয়, তাহলে ধারণা করা যায় যে, আল্লাহপাকের করুণার দৃষ্টি আরোপিত হয়েছে।

তাই আল্লাহর এহসানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন। যাতে এ অবস্থা বিদ্যমান থাকে। তাই গুনাহ বর্জনপূর্বক নেক কাজের প্রতি ধাবমান থাকা বাঞ্ছনীয়।

মনে রাখতে হবে, যে ঘরে মাল থাকে, চোর-ডাকাত সে ঘরেই ঢুকে। শয়তান মানুষের চির শত্রু। সে আমার আপনার ইমানের ডাকাত ও চোর, তাই সতর্ক থাকতে হবে। আর যদি আগের অবস্থায় কোনো উন্নতি অনুভূত না হয়। যদি ইবাদত-রিয়াজতে মন না বসে, গুনাহের প্রতি মন ধাবিত হয়।

যদি আখেরাতের দিকে মন ধাবিত না হয়ে দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে, আরও পরীক্ষা দিতে হবে। এমতাবস্থায় যা করণীয় তা করতে হবে, নিরাশ হওয়া যাবে না। নিজের কামিয়াবীর জন্য মেহনত-মুজাহাদায় মগ্ন হতে হবে। গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে যে, ইবাদতের দিকে মন ধাবিত হয় না কেন এবং কেন গুনাহের দিকে ধাবিত হয়। আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের শান্তির পরিবর্তে অস্থায়ী দুনিয়ার প্রতি মন প্রলুব্ধ হয় কেন? আত্ম-চিন্তার সহায়ক হিসেবে দেহ ও আত্মার সম্পর্ক বিবেচনা করা যেতে পারে।

অনেক সময় মানুষ সুখাদ্য ভক্ষণে অস্বস্তিবোধ করে, খেতে মন চায় না, ভালো লাগে না, বমি আসে।

এমতাবস্থায় ধরে নেওয়া হয় যে, লোকটির স্বাভাবিক সুস্থতা বিপন্ন হতে চলেছে, রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ কারণে রুচিকর খাদ্য খেতে চায় না। ভালো লাগে না। অরুচিকর অপুষ্টিকর খাদ্য খেতে চায়, খেতে ভালো লাগে।

এমতাবস্থায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়, তার চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। আবার রোগ একটি দুটি নয়, বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। চিকিৎসার নিয়ম, ওষুধপত্র ও সেবন পদ্ধতিও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, আবার কয়েকটি রোগের জন্য একই ওষুধ যথেষ্ট হতে পারে। তবে এসব কিছু নির্ভর করে চিকিৎসকের চিকিৎসার ওপর, রোগীর বিবেচনার ওপরে নয়।


-লেটেস্টবিডিনিউজ

Post a Comment