অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলী আর নেই



অভিনেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক ফরিদ আলী আর নেই। রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ আগস্ট বিকেল ৪টার সময় তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহে...রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত নানান রোগে ভুগছিলেন ফরিদ আলী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি। তিনি স্ত্রী, চার ছেলেমেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে গত ২১ আগস্ট তার ছেলে ইমরান আলী জয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বাবার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। দুটি পা অবশ হয়ে গেছে। ফুসফুসে পানি জমেছে এবং হার্টের রেট এখন ২৫ শতাংশ। তিনি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল কাদের আখন্দের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’

জয় আরও বলেছেন, গত ১৯শে আগস্ট আমরা বাবা ও মায়ের ৪১তম বিবাহবার্ষিকীর আয়োজন করছিলাম। এদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ বাবা চিৎকার করে ওঠেন। তার সারা শরীর ঘামতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বাবাকে ওয়ারী বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানের ডাক্তাররা বাবার আগের প্রেসক্রিপশন দেখেন। কয়েক মাস আগে বাবার চিকিৎসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হয়েছিল। ডাক্তাররা সেই প্রেসক্রিপশন দেখে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। বাবাকে ওই দিনই সেখানে ভর্তি করানো হয়।’

ফরিদ আলীর দক্ষ অভিনয়ের কারণে তিনি দর্শকমনে এখনও দাগ কেটে রয়েছে। বিশেষ করে ‘টাকা দেন দুবাই যাব, বাংলাদেশে থাকবো না’ এই সংলাপটির সঙ্গে যারা পরিচিত তারা এক বাক্যেই উচ্চারণ করবেন অভিনেতা ফরিদ আলীর নাম। শুধুমাত্র অভিনয় নয়, নাটক লেখা ও নির্দেশনায়ও সিদ্ধহস্ত ছিলেন এই শিল্পী। শহীদুল আমীনের লেখা ‘কনে দেখা’ নাটকে একটি মাত্র নারী চরিত্রে অভিনয় করে ১৯৬২ সালে তিনি অভিনয় যাত্রা শুরু করেন।

এছাড়া অসংখ্য মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। প্রফেসর মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘একতলা দোতলা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম টিভিতে দৃশ্যমান হন। তার নিজের লেখা প্রথম টিভি নাটক হলো-‘নবজন্ম’। অভিনেতা ফরিদ আলীর চলচ্চিত্রে পদার্পন ১৯৬৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘ধারাপাত’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। তখন থেকে একাধারে বহু ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য জীবন তৃষ্ণা, শ্লোগান, চান্দা, দাগ, অধিকার ইত্যাদি।

ফরিদ আলীর মৃত্যুতে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ বিএফডিসিতে নিয়ে আসার জন্য পরিবারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।পুরান ঢাকার ঠাটারি বাজারের বিসিসি রোডে ফরিদ আলীর বাড়ি আছে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম হাসির নাটক ‘ত্রি-রতœ’র অভিনয়শিল্পী এবং তৃতীয় নাটকের নাট্যকার।


- প্রিয়

Post a Comment