৪১তম হয়েও সোনা জয়ের আনন্দ


উত্তাল সমুদ্রে ভিড়ে ঠাসা নৌকাটি ডুবতে বসেছে তখন। হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল নৌকার ইঞ্জিন। ভার কমাতে সবাই সঙ্গে থাকা ব্যাগ আর জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলছিল সমুদ্রে। কাজ হচ্ছিল না তাতেও। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ছেড়ে অন্য দেশে মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই পেতে সমুদ্রে ভাসা ইউসরা মারদিনি ঝাঁপ দেন মাঝসমুদ্রে। ভূমধ্যসাগরের কনকনে ঠাণ্ডায় তিন ঘণ্টা সাঁতার কাটার পর মনে হচ্ছিল বরফের মতো জমে যাবেন হয়তো। জীবনের সেই যুদ্ধ জেতা ১৮ বছর বয়সী ইউসরা মারদিনি এখন অলিম্পিকে। ‘রিফিউজি দলের’ হয়ে গতকাল অংশ নিয়েছিলেন ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে। ১ মিনিট ৯.২১ সেকেন্ড সময় নিয়ে হয়েছেন ৪১তম। পৌঁছতে পারেননি সেমিফাইনালে। তাতে কী, জীবনযুদ্ধে জেতা ‘সোনা’ তো ভূমধ্যসাগরেই পেয়ে গেছেন তিনি।

গতকাল নিজের হিটে জিতে ৪১তম হয়েও সোনা জয়ের উচ্ছ্বাস ইউসরা মারদিনির কণ্ঠে, ‘সব কিছুই ছিল অসাধারণ। অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছি, রিওতে পূরণ হলো স্বপ্নটা।’ ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে মারদিনির সেরা টাইমিং ১ মিনিট ৮.৫১ সেকেন্ডে। অথচ রিওতে সময় নিলেন ১ মিনিট ৯.২১ সেকেন্ড। নিজের পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে জানালেন, ‘গত দুই বছর নানা কারণে সাঁতার কাটতে পারিনি। এর পরও যে টাইমিং করেছি তাতে খুশি আমি।’ ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ের বিশ্বরেকর্ড সারাহ সোসটরমের। তাঁর টাইমিং ৫৬.২৬ সেকেন্ড। রিওতে উপায় না থাকলেও ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ১ মিনিটের নিচে ১০০ মিটার বাটারফ্লাই শেষ করতে চান মারদিনি, ‘কিংবদন্তি সব সাঁতারুদের চোখের সামনে দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত আমি। এটা আমার প্রস্তুতিমূলক অলিম্পিক। নিয়মিত অনুশীলন করলে ২০২০ সালের টোকিও গেমসে ১ মিনিটের নিচে ১০০ মিটার বাটারফ্লাই শেষ করা অসম্ভব নয়।’

ভূমধ্যসাগরে ঝাঁপ দিয়ে নতুন জীবন পাওয়া মারদিনি থাকেন বার্লিনের শরণার্থী শিবিরে। রিওর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন আইওসির পতাকাতলে। পুরো অনুষ্ঠানটা উপভোগ করতে পারেননি অনুশীলন থাকায়। গতকাল ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ৪১তম হয়েও ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন অনুশীলনে। কেননা এবার তাঁর চ্যালেঞ্জ ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল। রিওর নীল জলে ঝড় তুলতে না পারলেও আলো ছড়াতে চান এই ইভেন্টেও। 
-এএফপি


Post a Comment