মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য চাঁনখারপুল



হাত মুড়িয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে টান। টানেই বুঝি সুখ! আসলেই তা নয়। জনসম্মুখে মাদকসেবীদের এমন মাতাল দশায় বিব্রত স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। এক পাশে বুয়েট আরেক পাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। অভিভাবকদের অভিযোগ স্বত্ত্বেও মাদকসেবীদের যেন অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে পুরো চাঁনখারপুল এলাকা।

প্রতিদিন রাস্তায় ফুটপাথে বসে দিনের বেলাই গাঁজা, ড্যান্ডিসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নিচ্ছে বেশকিছু ছিন্নমূল মাদকসেবী। এছাড়া ছিন্নমূলরা তাদের ‘স্থায়ী আবাস’ বানিয়ে নিয়েছে এলাকাটিতে। গোল করে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে ইঞ্জেকশন নিতে দেখা যায় হরহামেশা। এ যেন নিত্যদিনের দৃশ্য।

এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিদিনের দুর্ভোগ পোহানোর অভিযোগ এলাকাবাসী ও পথচারীদের। থানায় অভিযোগ করেও যেন রেহাই মিলছে না তাদের। শুধু তাই নয়, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকাটির কিছু অংশ পড়েছে শাহবাগ থানায় কিছু অংশ বংশাল। এলাকাটিকে অনেকে চকবাজার থানাধীন অংশ বলেও মনে করে থাকেন। তাই অভিযোগ উঠলেও সমাধানে রশি টানাটানি চলে শাহবাগ, বংশাল আর চকবাজার থানার মধ্যে।

সরেজমিন ও এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যে জানা গেছে, চাঁনখারপুল স্টাফ কোয়ার্টার, যক্ষ্মা হাসপাতাল, আনন্দবাজার, নিমতলী গেট, চাঁনখারপুল ট্রাকস্ট্যান্ড, এক কথায় বঙ্গবাজার মোড় থেকে শুরু করে বুয়েট মোড়ের রাস্তার দু`পাশ যেন একটি মাদকের হাট।

এই এলাকার ফুটপাত সংলগ্ন দোকানি এবং পথচারীরা জানান, এখানে ছিন্নমূল মাদকসেবীদের মাদক সেবন দেখে মনে হয় এটা তাদের অভয়ারণ্য। ইনজেকশনে ব্যবহৃত একই সুঁচ অনেকের মধ্যে ব্যবহারের দৃশ্যও দেখা যায়। হাত-পায়ে দগদগে ঘা নিয়ে যেভাবে তারা মাদক সেবন করে, তা দেখে অনেকেই শিউড়ে ওঠেন। এদের স্বভাব হলো, ভাত না খেয়ে মাদক সেবন। মানুষের কাছ থেকে তারা ভিক্ষার টাকা নিয়ে সেই টাকা দিয়ে মাদক সেবন করে।

হামিদুর রহমান নামের ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ছেলে-মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসার সময় প্রায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। ওখানে কিছু লোক শরীরের এমন কিছু স্থানে ইঞ্জেকশন নেয়, মাদকসেবন করে যা দেখা খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

তিনি বলেন, ফুটপাতে বসে কেউ গাঁজা খায়, কেউ হেরোইন নেয় আবার কেউবা ইঞ্জেকশন নেয়। এনিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করেও সমাধান মেলেনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিমুর রশিদ তালুকদার বলেন, এলাকাটি ফ্লাইওভারের ওপাশের অংশ পড়েছে বংশালে। আর ঢামেক অংশটি পড়েছে শাহবাগে। আমার এলাকায় মধ্যে নয়।

বংশাল থানার ওসি নূরে আলম জানান, আমার এলাকার মধ্যে মাদকসেবী থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শাহবাগ থানার ওসি আবু বকরও একই দাবি তোলেন।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইব্রাহিম খান জাগো নিউজকে বলেন, এলাকাটি যে থানার অধীনেই পড়ুক না যেন সমস্যাটি মাদক। আর পুলিশের অবস্থান মাদকের বিরুদ্ধে। আমি খোঁজ-খবর নিয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

-jagonews24

Post a Comment