বস্তি থেকে জার্মানি যাত্রা। লিও মেসির গল্প মনে করাচ্ছে ভারতের বিস্ময় প্রতিভা


বয়স মাত্র এগারো। কিন্তু ছোট্ট চন্দনের ড্রিবল, পাসিং সব কিছুই তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীকেও। নিজের বয়সের থেকে বড় ছেলেদের দলেও ওড়িশার হয়ে খেলেছে বস্তিতে থাকা চন্দন। আর নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এবার জার্মানি পাড়ি দিচ্ছে চন্দন নায়েক।

ওড়িশার এই খুদে ফুটবলারকে দু’মাসের ট্রেনিংয়ের জন্য বেছে নিয়েছে জার্মানির বিখ্যাত ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। দু’মাস ধরে জার্মানির এই ক্লাবের নিজস্ব একাডেমিতে বিশ্বের সেরা কোচদের থেকে প্রশিক্ষণ নেবে চন্দন। আগামী ২৫ অগস্ট জার্মানি রওনা হবে সে। এই খুদে বিস্ময় প্রতিভাকে নিয়ে এখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে ভারতীয় ফুটবল।

চন্দনের ছোটবেলাটা অবশ্য দারিদ্র এবং লড়াইয়ে ভরা। একদম ছোট অবস্থায় চন্দদের বাবা তাকে এবং তার মাকে ছেড়ে চলে যায়। চন্দনের মা পরিচারিকার কাজ করে কোনওক্রমে চন্দন এবং তাঁর অন্য সন্তানদের বড় করছেন। কিন্তু ছোট থেকেই চন্দনের পায়ে ফুটবল কথা বলে। ভুবনেশ্বরের সবর বস্তি এলাকাতেই ছোট থেকে বেড়ে উঠেছে চন্দন। চন্দনের প্রতিভা প্রথম নজরে পড়ে জয়দেব মহাপাত্র নামে এক ফুটবল কোচের। গত তিন-চার বছর ধরে তাঁর কাছেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে চন্দন। ওড়িশার হয়ে প্রতিনিধিত্বও করেছে চন্দন। সেই দলে অন্য খেলোয়াড়দের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে থাকলেও মাত্র ১১ বছরের চন্দন সবার নজর কেড়েছে। পুণেতে গিয়ে ভারতীয় দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীরও চোখে পড়ে চন্দন। 

সেখান থেকেই বায়ার্ন মিউনিখে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয় সে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১২০ জন খুদে ফুটবলারকে এই প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। চন্দনের কোচের দাবি, ফিলিপ লামের মতো বিখ্যাত ফুটবলারের পাশে অনুশীলনের সুযোগ পাবে চন্দন। নিজের ছাত্রের সঙ্গে লিওনেল মেসির ছোটবেলার মিল খুঁজে পাচ্ছেন চন্দনের কোচ জয়দেব। কারণ, বার্সালোনায় স্কাউটদের নজরে পড়ার আগে ছোটবেলায় মেসিকেও দারুণ দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।

ছোট্ট চন্দন জানিয়েছে, বড় হয়ে ভারতের জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চায় সে। জার্মানিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় নিজের কোচকেই ধন্যবাদ জানিয়েছে চন্দন। চন্দনের বিদেশযাত্রা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারও তৎপরতা দেখিয়েছে। কারণ, চন্দনের কাছে বার্থ সার্টিফিকেটও ছিল না। তাই চন্দনের পাসপোর্ট এবং ভিসা পেতে যাতে সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তার বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে পাসপোর্ট এবং ভিসা বার করে দিতে সরকারি আধিকারিকরা যাবতীয় সাহায্য করেছেন।


শুরুটা লিও মেসি-র কায়দায় হল, ভারতীয় ফুটবলের মলিন চেহারাটা চন্দনের পা ধরে ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াবে? এই উত্তরের অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

-ebela

Post a Comment