বুকের দুধ থেকে এন্টিবায়োটিক


বুকের দুধ থেকে নতুন এক এন্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটি এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকদের উদ্ভাবিত এই এন্টিবায়োটিক কোষীয় রূপান্তরের কারণে সৃষ্ট রক্তশূন্যতার চিকিৎসায়ও সহায়ক।

রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, মায়ের দুধে থাকা ল্যাকটোফেরিন নামের এক প্রোটিন নবজাতককে বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। ওই প্রোটিনের মাধ্যমে গবেষকরা একটি ক্যাপসুল তৈরি করেছেন, যা ভাইরাসের মতো কাজ করে।

এই ক্যাপসুল নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটিরিয়াকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারে অন্য কোষের ক্ষতি না করেই।

এই গবেষক দলের সদস্য হাসান আলকাশেমকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, ক্যাপসুলের কার্যকারিতা দেখতে তারা এ্যাটমিক মাইক্রোস্কোপসহ বিশেষ একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল ক্যাপসুল ছিল না, ব্যাকটিরিয়ার ঝিল্লি বা পর্দার ওপর এই ক্যাপসুল কী মাত্রায় আক্রমণ করে তাও আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। পরীক্ষার ফলাফল হয়েছে দুর্দান্ত। এটি বুলেটের বেগে ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়ার ঝিল্লিতে আক্রমণ চালিয়েছে।

গবেষকরা দেখতে পান, এই প্রোটিন ক্যাপসুল ব্যাকটিরিয়ার জৈব কাঠামোকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে সেটি আর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে না। আর এ কারণেই সাধারণ এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক নিরাময়ে গবেষকরা নতুন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। প্রচলিত এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা এ ধরনের ব্যাকটিরিয়াকে বলা হচ্ছে ‘সুপার বাগ’। প্রতিবছর সুপার বাগের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

ব্রিটিশ সরকার গঠিত একটি গবেষক প্যানেলের হিসাবে এখনই এসব সুপার বাগ প্রতিরোধের নতুন চিকিৎসা তৈরি না হলে ২০৫০ সালে ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে ১ কোটিতে গিয়ে দাঁড়াতে পরে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও সম্প্রতি এক বক্তৃতায় বলেন, সুপার বাগের বিরুদ্ধে জয়ী হতে না পারলে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ‘অন্ধকার যুগে’ ফিরে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ল্যাকটোফেরিন থেকে তৈরি নতুন এ এন্টিবায়োটিক সুপার বাগের পাশাপাশি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রক্তকণিকার রোগ নির্মূলেও ভাল কাজ করবে।

এ বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডেম স্যালি ডেভিস বলেন, প্রতি দশকে আমাদের এ ধরনের দশটি নতুন এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন। আমি কেবল আমার বৃদ্ধ বয়সের কথা ভাবছি না। আমার সন্তানরাও যাতে তাদের বৃদ্ধ বয়সে ব্যবহার করতে পারে।

-জনকন্ঠ

Post a Comment