ইন্টারনেট সেবাদাতা ২০৪ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল


সারাদেশে ২০৪টি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা আইএসপি-এর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এসব আইএসপির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত দিয়ে মঙ্গলবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিটিআরসি। এতে সকল আইআইজি ও নেশনওয়াইড আইএসপিদের ২৫ আগস্ট রাত ১২টা থেকে তালিকাভুক্ত এসব আইএসপির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এসব আইএসপির কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে বিটিআরসির সচিব সারওয়ার আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এসব আইএসপি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নেওয়ার পর থেকে বিটিআরসিকে নিয়ম অনুযায়ী কোনো তথ্য প্রদান করেনি, রাজস্ব ভাগাভাগিও করেনি। ফলে এসব আইএসপি কোথা থেকে ব্যান্ডউইথ কিনছে, কত গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে সে ধরনের কোনো তথ্যই জানা যাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে নয় দফা চিঠি দিয়ে এসব আইএসপির কাছ থেকে লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী তথ্য চাওয়া হয়। কিন্তু তারা কোনো ধরনের জবাব না দেওয়ার কারণে সর্বশেষ তাদের কার্যক্রম বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

বিটিআরসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট রাত ১২টা থেকে এসব আইএসপির ১০০ ভাগ আপস্ট্রিম ক্যাপাসিটি ব্যান্ডউইথ বন্ধ করে দেওয়া হবে, এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন অনুমোদন করা হবে না এবং এদের বিরুদ্ধে ২০০১ সালের টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিটিআরসির তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে নেশনওয়াইড, সেন্ট্রাল জোন, আঞ্চলিক এবং বিভিন্ন মহানগরী এলাকার জন্য ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্সধারী আইএসপির সংখ্যা ৫৫৭টি।

প্রজ্ঞাপনে বন্ধের জন্য তালিকাভুক্ত ২০৪টি আইএসপি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টি নেশনওয়াইড আইএসপি, ২৩টি সেন্ট্রাল জোন আইএসপি, ১৩টি আঞ্চলিক আইএসপি, ৭০টি ঢাকা মহানগরী এলাকায় ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত আইএসপি, ২৬টি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট মহানগরী এলাকার ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত আইএসপি এবং ৩৯টি অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘সি’ ক্যাটাগরিভুক্ত আইএসপি।

এ বিষয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুল হাকিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবহিত। যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ছিল না। ফলে তাদের কার্যক্রম তদারকিতে সমস্যা হচ্ছিল। এ অবস্থায় বিটিআরসি তাদের লাইসেন্স বাতিলের জন্য যে নির্দেশ দিয়েছে সেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।’

বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেশনওয়াইড বা দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স পাওয়া আইএসপিগুলো হলো—এবিএসকো লিমিটেড, এজিআই কমিউনিকেশন লিমিটেড, অ্যাপল নেটওয়ার্ক লিমিটেড, এশিয়া ইনফোসিস লিমিটেড, জে ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড, বি টু এম টেকনোলজিস লিমিটেড, বিজনেস ট্রেড সিন্ডিকেট লিমিটেড, কসমস টেকনোলজিস লিমিটেড, ঢাকা টেলিফোন কোম্পানি লিমিটেড, ডাইনামিক অ্যানালজিস, ইআইআর টেল সার্ভিসেস, একটো লিমিটেড, ফ্লোরা লিমিটেড, জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড, গ্লোবাল অ্যাকসেস লিমিটেড, ইন্টিগ্রেটেড বিজনেস কমিউনিকেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক সলিউশন, আইএস প্রোস লিমিটেড, মহসিন খান ব্রিক ফিল্ড, নেক্সট কমিউনিকেশন টেকনোলজি, নেক্সটেল টেলিকম লিমিটেড, ওনেট প্রাইভেট লিমিটেড, পিপলস টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস, পলি আইটি লিমিটেড, পলিট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, প্রীতি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, প্রশিকা কম্পিউটার সিস্টেম, আরএডব্লিউ বিডি লিমিটেড, টেলিবার্তা লিমিটেড, ওয়েসটেক লিমিটেড, টেলিবা আইসিটি লিমিটেড এবং এক্স লিংক লিমিটেড।


-লেটেস্টবিডিনিউজ

Post a Comment