অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের



আশিকুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
(প্রিয় ক্যাম্পাস) সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের জমিতে আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ৯ টার দিকে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেন শিক্ষার্থীরা। 


পুলিশের গুলি ও টিয়ারশেলে ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গুরুতর আহতদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর ২টায় শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

সোমবার দুপুর ২টায় আন্দোলনকারীদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদ পুলিশের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানীরও অভিযোগও আনেন। শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদ এবং সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের জমিতে আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে পরবর্তী ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেনি তিনি।

আন্দোলনকারীদের বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে রিয়াদ উপস্থিত সবাইকে লক্ষ করে বলেন,  রোববার রাতে আন্দোলনকারীদের বাসায় বাসায় গিয়ে পুলিশি রেড দেওয়া হয়েছে। মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনকে বলতে চাই, পারলে এখন গ্রেফতার করুন। বাসায় বাসায় রেড না দিয়ে এখানে এসে গ্রেফতার করুন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বানচাল করার জন্য একটি গ্রুপ চেষ্টা চালাচ্ছে অভিযোগ করে রিয়াদ বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বানচাল করতে বিভিন্ন রকম চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র চলছে। গত ২১ দিন আমরা যে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন করেছি, সেই আন্দোলন কখনোই অন্যদিকে মোড় নিতে দেওয়া যাবেনা। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল, আছে এবং থাকবে।’

এর আগে সকাল ৯ টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে প্রথমে রায়সাহেব বাজার মোড়ে ব্যাড়িকেট সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের বাধা দেয় পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোব্ধ শিক্ষার্থীরা ব্যাড়িকেট ভেঙে নয়াবাজার মোড়ে আসলে আবারও পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। 

শিক্ষার্থীরা সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। বাধা পেয়ে আন্দোলনকারীরা নয়াবাজার মোড়েই টায়ার জ্বালিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে জগন্নাথ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

কিছুক্ষণ তারা হল চাই স্লোগান দিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। কিন্তু ছাত্রলীগ সম্পাদকের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে না নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। এতে ছাত্রলীগ নেতারা আন্দোলনকারীদের মাইক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সফল হননি।

আন্দোলনকারীরা ছাত্রলীগের কর্মসূচি স্থগিতের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় দুপুর ১ টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সাকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। এরপর দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের একাংশ কেটে ফেলা হয়েছে। রোববার রাতেই এটা কাটা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের ধারণা। তবে কে বা কারা এটা কেটেছে সেটা জানা যায়নি। রাজন নামের এক আন্দোলনকারী এ বিষয়ে বলেন, ‘আন্দোলনকরীরা যেন গেইটে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট পালন করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনই এই কাজ করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে লালবাগ বিভাগের ডিসি ইব্রাহীম খান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমরা জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের সরে যেতে বলেছি। পাশাপাশি তাদের পক্ষ হতে প্রতিনিধি চেয়েছি যেন স্মারকলিপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে পারেন। কিন্তু তারা তা শোনেনি। এজন্য আমরা বাধ্য হয়ে তাদেরকে সরাতে টিয়ারশেল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছি। কিন্তু গুলি করিনি।’

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও একজন শিক্ষার্থীরও আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ দেওয়া ও সেখানে হল নির্মাণের দাবিতে ১ আগস্ট থেকে আন্দোলন করছে জবি শিক্ষার্থীরা। 


শিক্ষার্থীদের দাবি, সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের ২৩ একর জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে এবং সেখানে চার নেতার নামে হল তৈরী করতে হবে। এজন্য সরকারকে আন্তরিক হওয়ারও আহবান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

-প্রিয়

Post a Comment