ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী ২০ কম্পানির লাইসেন্স বাতিল


ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী ২০ কম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ওষুধ তৈরির লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। আর ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শুধু পেনিসিলিন জাতীয় ওষুধ তৈরির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সংসদীয় বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশের পর এসব কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১২তম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, মো. ইউনুস আলী সরকার, নিজাম উদ্দিন হাজারী, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এবং সেলিনা বেগম অংশ নেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, মাঠ পর্যায়ে এসব কোম্পানির কার্যক্রম এখনও আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনোভাবেই ভেজাল ওষুধ প্রস্তুত করতে দেবে না সরকার।

অধিদফতরের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া স্বাক্ষরিত সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটির লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। তবে লাইসেন্স থাকলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি কর্তৃপক্ষ। এজন্য ওই তিনটি ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা যায়নি।

২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। এগুলো হলো- স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টার ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল ও এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল। তবে প্রথম পাঁচ কম্পানির লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। আর স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল নিজেরাই ওষুধ প্রস্তুত বন্ধ করে দিয়েছে। কুমিল্লার বিসিক এলাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। আর এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল নতুন করে সব শর্ত পূরণ করে ওষুধ তৈরি জন্য চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে সব ধরনের পেনিসিলিন তৈরির লাইসেন্স বাতিল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- টুডে ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ড্রাগ, সুনিপুন ফার্মাসিউটিক্যাল, ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, ড্রাগল্যান্ড, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যাল, জালফা ল্যাবরেটরিজ, রিড ফার্মাসিউটিক্যাল, রেমো ক্যামিকেল, ক্যাফমা ফার্মাসিউটিক্যাল, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ,  মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যাল এবং নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল।

আর লাইসেন্স নিলেও ঠিকানা অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠান খুঁজে পায়নি অধিদফতর। এজন্য এগুলো সিলগালা করা সম্ভব হয়নি। এগুলো হলো নারায়ণগঞ্জের ড্রাগল্যান্ড, নোয়াখালীর ক্যাফমা ও রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ট্রপিলক্যালস ফার্মাসিউটিক্যাল। এছাড়া ফার্মা ডিভিশনে কোনো যন্ত্রপাতি না থাকায় এটি সিলগালা করা হয়নি।


উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠেকে বিশেষজ্ঞ তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ২০টি ওষুধ কম্পানির ওষুধ উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়। গত বছর সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যে কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই প্রতিবেদন প্রণয়ন করে সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়।

-kalerkantho

Post a Comment