ঘুরে বেড়াচ্ছে আগত হাতি ॥ উদ্ধার অভিযান ফের ব্যর্থ

ভারতের আসাম রাজ্য থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী পথে বন্যার পানিতে ভেসে আসা হাতিটির উদ্ধার অভিযান বুধবার তৃতীয় বারের মত ব্যর্থ হয়েছে। মোটা চামড়ার বুনো হাতি অচেতন করতে এটির শরীরে টাংকুলাইজার গান দিয়ে প্লাস্টিক ডার্ট নিক্ষেপ প্রক্রিয়াটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। অথচ পরপর তিনদফা একই পদ্ধতি ব্যবহার করে হাতি উদ্ধার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করায় এলাকায় হাতি আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেই সাথে হাতিটিকে জীবন্ত উদ্ধার করা হবে কিনা এনিয়েও জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ঝিনাই নদী সাতরে বুনো হাতিটি ডাঙ্গায় উঠে বুধবার সকাল ১০ টায় ওই ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের লোকালয়ে প্রবেশ করে। এসময় শতশত উৎসুক দর্শনার্থী হাতিটির পিছু নেয়। একই সময় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিক এর নেতৃত্বে টাংকুলাইজার গান নিয়ে দক্ষ শুটার ভেটেরিনারী সার্জন ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ও ভেটেরিনারী সার্জন ডা: সাইদ হোসেন সহ ছয় জনের একটি হাতি উদ্ধারকারী দল হাতিটি উদ্ধারের জন্য অভিযানে নামেন। একপর্যায়ে ওইদিন বেলা ১১ টায় উদ্ধারকারী দলের সদস্য দক্ষ শুটার ভেটেরিনারী সার্জন ডা: মোস্তাফিজুর রহমান খুব কাছ থেকে টাংকুলাইজার গান দিয়ে হাতিটির শরিরে একটি প্লাস্টিক ডার্ট নিক্ষেপ করেন (প্লাস্টিক ডার্ট হলো হাতি অচেতন করার ওষুধ ভর্তি সিরিঞ্জ)। কিন্তু হাতিটি অচেতন না হয়ে প্লাস্টিক ডার্ট এর আঘাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে। ওই সময় এলাকায় নতুন করে হাতি আক্রমনের আতঙ্ক বেড়ে যায়। একপর্যায়ে হাতিটি কিছুটা শান্ত হয়ে লোকালয় ছেড়ে ওই গ্রামের মাঝে পাট ক্ষেতের পাশের্^ গিয়ে আশ্রয় নেয়।

এ ব্যাপারে কামরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মুনসুর আহম্মেদ জানান, প্রায় ১২ দিন যাবত হাতিটি কামরাবাদসহ আশপাশের এলাকায় ছুটাছুটি করায় মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের এলাকার মানুষ হাতি আক্রমনের ভয়ে রাত জেগে মশাল জ্বালিয়ে হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছে। এছাড়াও হাতি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা অকার্যকর প্রক্রিয়ায় হাতি উদ্ধার করতে গিয়ে বারবার হাতিটিকে আঘাত করায় হাতিটি ক্ষেপে উঠছে। এতে মানুষের উপর হাতিটির আক্রমনের আশঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলছে।

হাতি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত টাংকুলাইজার গান শুটার ভেটেরিনারী সার্জন ডা: সাইদ হোসেন জানান, আগত বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক থেকে দক্ষ শুটার ভেটেরিনারী সার্জন ডা: মোস্তাফিজুর রহমান মঙ্গলবার রাতে সরিষাবাড়ীতে এসে বুনো হাতি উদ্ধারকারী দলের সাথে যুক্ত হন। পরদিন বুধবার সকালে সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে বিচরণকারী বুনো হাতিটিকে অচেতন করে উদ্ধারের জন্য খুব কাছ থেকে টাংকুলাইজার গান দিয়ে একটি প্লাস্টিক ডার্ট নিক্ষেপ করেন (প্লাস্টিক ডার্ট হলো হাতি অচেতন করার ওষুধ ভর্তি সিরিঞ্জ)। ওই প্লাস্টিক ডার্টের সুঁই বুনো হাতির মোটা চামড়ায় বিদ্ধ হতেই সুঁই বাকা হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এতে প্লাস্টিক ডার্টের সিরিঞ্জ থেকে অচেতন করার ওষুধ হাতির শরীরে প্রবেশ করে নাই। এর আগে শনিবার দুপুরে এবং সোমবার রাতে একই কৌশলে টাংকুলাইজার গান দিয়ে শুট করা হলেও হাতির শরীরে অচেতন করার ওষুধ প্রবেশ করে নাই। ফলে একই কারণে তৃতীয় দফায় হাতিটির উদ্ধার অভিযানও ব্যার্থ হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাতিটিকে অচেতন করে উদ্ধার প্রক্রিয়ায় প্লাস্টিক ডার্ট কাজ করছেনা। তাই মোটা চামড়ার এই বুনো হাতিকে উদ্ধার করতে হলে টাংকুলাইজার গান এ মেটাল ডার্ট ব্যবহার করতে হবে।

একই হাতি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিক জানান, হাতি উদ্ধারে টাংকুলাইজার গান দিয়ে প্লাস্টিক ডার্ট নিক্ষেপ প্রক্রিয়াটি কাজে আসছে না। তাই হাতিটি উদ্ধারের জন্য মেটাল ডার্ট ব্যবহার করতে হবে।

-janakantha

Post a Comment