বরের বয়স ৯০ এর কোঠায়, কনের মোটে ১৩! এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য


ডজনখানেক নাতি নাতনি রয়েছে  বৃদ্ধের । কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে প্রথম স্ত্রী মারা যান। এরপরই  বৃদ্ধের  নজর পড়ে একই গ্রামের দিনমজুর রফিকুলের শিশুকন্যা সালমার (১৩) উপর। বছরখানেক আগে সালমার বাল্যবিবাহ হয়েছিল নরসিংদীর এক ছেলের সঙ্গে। ছেলেটি মাদকাসক্ত ও দরিদ্র হওয়ায় বিয়ের ৩ দিন পরই সালমা বাবার বাড়িতে চলে আসে। মাত্র ১ মাস আগে ওই ছেলেকে ডিভোর্স দিয়েছে সালমা।

এরপরই পরিবারের সবার ইচ্ছে আর বাধাকে উতরে  কিশোরী সালমাকে বিয়ে করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যান বৃদ্ধ । উলটো মেয়েকে যৌতুক দেয়ার প্রস্তাব দেন কিশোরীর দরীদ্র বাবা-মাকে । একপর্যায়ে সালমার পরিবার সম্মত হলেও বেঁকে বসেন কাজী। কারণ অপ্রাপ্ত বয়স্ক সালমা ডিভোর্স দিয়েছে মাত্র ১ মাস আগে। ৩ মাস না হলে দ্বিতীয় বিয়ের বিধান নেই। বৃদ্ধ আশ্রয় নেয় নোটারি পাবলিকের।

গত ২৬শে আগস্ট শুক্রবার শিশু সালমার সঙ্গে বিয়ে হয় বৃদ্ধ আবু মিয়ার। সালমাকে ১ বিঘা ফসলি জমি ও বাড়ির ২ শতাংশ জায়গা লিখে দিয়েছেন বৃদ্ধ স্বামী। শিশু ও বৃদ্ধের এমন বিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে গোটা উপজেলায়। এ দম্পতিকে এক নজর দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে এসে ভিড় করেন উৎসুক লোকজন। অথচ উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

আনা গেছে আবু মিয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি করতেন।  ৪৫ বছর চাকরি করার পর ২০০৫ সালের জুন মাসে তিনি অবসরে আসেন।

প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে এভাবেই  উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে ৮৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ আবু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল ১৩ বছরের শিশু সালমার। এ বিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ballo bibah

প্রশাসন এখনো বলছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। স্থানীয় বাল্যবিবাহ বিরোধীদের বক্তব্য হচ্ছে- তাদেরকে জানানোর জন্য কি আরেকটি বিভাগ খুলতে হবে? স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, নোয়াগাঁও মুতাঈদ বাড়ির অলি আহমেদের ছেলে আবু মিয়া ৪ সন্তানের জনক।


বৃদ্ধ আবু মিয়া অল্প বয়সী সালমাকে বিয়ে করার কথা স্বীকার করে বলেন, সব মিলিয়ে ৪৫ বছর শুধু চাকরিই করেছি। এখন একা। তাই বিয়ে করে ফেললাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নাহিদা হাবিবা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

-SomoyerKonthosor

Post a Comment