গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে গণশুনানি


গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) হুইলিং চার্জ বা সঞ্চালন ফি বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর শুনানির মাধ্যমে এক বছরের ব্যবধানে আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিইআরসি রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি অডিটরিয়ামে এই গণশুনানি শুরু করেছে। প্রথম দিনে জিটিসিএলের শুনানি হয়।

এর আগে ২০০৯ সালে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর ২০১৫ সালে ছয় বছরের ব্যবধানে এসে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়।

প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন ট্যারিফ দশমিক ১৫৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম দশমিক ৩৬৬৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করে জিটিসিএল। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব বিইআরসি মূল্যায়ন কমিটি পর্যালোচনা করে দশমিক ২৯৫৬ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে, যা বিদ্যমান সঞ্চালন ট্যারিফের তুলনায় প্রায় ৮৮.৮৮ শতাংশ বেশি।

গতকালের শুনানিতে এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘প্রতিবছরই শুনি গণশুনানি হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখি গ্যাসের দাম বাড়ে।’ তিনি বলেন, জনগণ বছর বছর গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সহ্য করতে পারছে না।’

ছয়টি গ্যাস বিতরণ, একটি সঞ্চালন কম্পানি এবং বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার প্রথম দিন জিটিসিএলের আবেদনের ওপর গণশুনানি করা হয়। এতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে জিটিসিএল ও ভোক্তাদের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষের প্রস্তাব ও যুক্তিতর্ক শোনেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ আর খান, সদস্য মাকসুদুল হক, সদস্য রহমান মুর্শেদ।

ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম, ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমাদ, অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক সালেক সুফি, রাজনীতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ বিভিন্ন পেশা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা শুনানিতে অংশ নেন।

ড. এম শামসুল আলম শুনানিতে বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর গ্যাসের সঞ্চালন মূল্য হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে আবারও সঞ্চালন মূল্য হার বৃদ্ধির এই প্রস্তাব অযৌক্তিক। জিটিসিএল প্রতিনিধিরা তাঁদের নেওয়া বিভিন্ন পাইপলাইন প্রকল্পের খরচ এবং দাতা সংস্থার কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে সঞ্চালন মাসুল বৃদ্ধির আবেদন করেন। তবে শামসুল আলম যুক্তি তুলে ধরে বলেন, জিটিসিএলের পুঞ্জীভূত অবচয় বাবদ অর্থের পরিমাণ দুই হাজার ৭৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা হলেও এর বিপরীতে কোনো তহবিল নেই। এমন ভয়াবহ আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম রয়েছে জিটিসিএলে। এমন পরিস্থিতিতেও জিটিসিএল লভ্যাংশ ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়। তিনি কম্পানির আর্থিক খরচ কমিয়ে এনে গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে কমানোর দাবি জানান।

আজ তিতাস গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হবে।

গণসংহতির বিক্ষোভ : গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এক বছর না পেরোতেই আবার দাম বাড়ানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন। গতকাল সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিটির (বিইআরসি) গণশুনানি চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির বাইরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বকারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বড়ানোর প্রস্তাব ও উদ্যোগ জনগণ মানে না। সমন্বয়ের নামে হোক আর যে ছুতাতেই হোক, দাম বাড়ানোর এক বছর পার না করেই এই মূল্যবৃদ্ধি সরকারের ঘোষিত নীতির পরিপন্থী।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতির ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক মনিরউদ্দিন পাপ্পু।

-kalerkantho

Post a Comment